সন্তোষ জয়ী রবি হাঁসদা, সৌরভ সামন্ত-সহ আঠারো জন ফুটবলারকে এবার খেলতে হতে পারে ঘরোয়া লিগের প্রথম ডিভিশনে। যেহেতু এঁরা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে চাকরি করেন, এবারে পুলিশ দলের তরফ থেকে সন্তোষ জয়ী ফুটবলারদের বলে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন কলকাতা লিগে তাদের অফিস দল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হয়েই নামতে হবে। এই পুলিশ দলটি বর্তমানে ঘরোয়া লিগের প্রথম ডিভিশনে খেলে। স্বাভাবিকভাবে অফিস দলের হয়ে খেলতে হলে রবি হাঁসদা, ইসরাফিল দেওয়ানদের প্রিমিয়ার ডিভিশনে নয়, খেলতে হবে ঘয়োরা লিগের প্রথম ডিভিশনেই।
যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও সার্কুলার বেরোয়নি। তবে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই ফুটবলাররা ব্যারাকপুর লাটবাগানের মাঠে পুলিশ দলটির সঙ্গে আপাতত কলকাতা লিগের প্রস্তুতি সারছেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এই ফুটবলারদের মধ্যে আবার বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন যাঁদের সঙ্গে ক্লাবেরও চুক্তি রয়েছে। যেমন মহামেডানের সঙ্গে আগামী মরশুমেও চুক্তি রয়েছে ইসরাফিল দেওয়ানের। কিংবা সৌরভ সামন্তের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ইউনাইটেড স্পোর্টসের। এমন পরিস্থিতিতে যদি সরকারি সার্কুলার বেরিয়ে যায়, তাহলে ওপেন ক্লাব খেলার ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়বে এই ফুটবলারদের। সন্তোষ জয়ের পর ১৯ জন ফুটবলার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে চাকরি পেয়েছিল। এদের মধ্যে চাকু মাণ্ডি কয়েক মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়ে রেলে যোগ দিয়েছেন। ফলে তাঁকে এই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।
এবারের পুলিশ দলটির কোচ হিসাবে রয়েছেন সন্দীপন দাস। সঙ্গে দায়িত্বে আরও দুই সহকারি সৌমাভ ঘোষ ও স্বরূপ দে। সূত্রের খবর, সন্তোষ জয়ী ফুটবলাররা সর্বভারতীয় পুলিশ প্রতিযোগিতায় খেলতে আগ্রহী হলেও প্রিমিয়ার ছেড়ে প্রথম ডিভিশন খেলতে আগ্রহী নন। তাঁদের ভয় ঘরোয়া লিগের প্রথম ডিভিশনে খেলা ফুটবলারদের আই লিগ বা আইএসএল খেলা ক্লাবেদের চোখে পড়ার সম্ভাবনা কম। আই লিগ বা আইএসএল ক্লাবগুলো সবসময় ফুটবলার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার ডিভিশনের দিকেই তাকিয়ে থাকে। আর যাঁরা আই লিগ বা আইএসএলে খেলছেন, তাঁরা ভয় পাচ্ছেন যদি কলকাতা লিগ খেলার পরও আই লিগ বা আইএসএলে না ছাড়ে তাহলে তাঁদের দেশের সেরা লিগে খেলার ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়বে।
এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা তাকিয়ে রয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের দিকে। আপাতত এই ফুটবলারদের কয়েকজন ইতিমধ্যেই আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের সঙ্গেও কথা বলেছেন, আইএফএ সচিব তাঁদের বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে কথা বলবেন।
