লিওনেল মেসির মূর্তি হাওয়ায় দুলছিল। জনবহুল পথ থেকে সেই মূর্তি সরানো হবে। কিন্তু কীভাবে মূর্তি সরানো হবে, কোথায় রাখা হবে-সেই নিয়ে দোলাচলে প্রশাসনও। শুক্রবার দুপুরে মেসির মূর্তি পরিদর্শনে যান পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের এক বিশেষজ্ঞও। সকলেই একমত, মেসির মূর্তিটি অক্ষতভাবে নামিয়ে আনাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
দিনকয়েক আগে মেসির মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে হাওয়ায় দুলতে থাকে। আপাতত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে মূর্তির চারপাশ শাল-বল্লা দিয়ে ঘিরে মোটা দড়ির সাহায্যে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে কোনওভাবে সেটি ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা না ঘটে। রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, মেসির মূর্তি ওই এলাকা থেকে সরিয়ে ফেলা হবে। কোনও পার্ক বা কোনও যথোপযুক্ত জায়গায় মূর্তি রাখার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
কিন্তু ইঞ্জিনিয়াররা মনে করছেন, সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার মূর্তি অক্ষতভাবে নামিয়ে আনার কাজটা অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। মঙ্গলবার থেকে বাঁশের ঠেকনা এবং দড়ির সাহায্যে মেসির মূর্তিটি দোলা বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার সেখানে পৌঁছন পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার এবং আইআইটি খড়গপুরে বিশেষজ্ঞ। কীভাবে মূর্তি সরানো সম্ভব, সেই নিয়ে রিপোর্ট পেশ করবেন সকলে। আপাতত তাঁদের লক্ষ্য, নিচের স্তম্ভ বাদ দিয়ে উপর থেকে শুধুমাত্র মূর্তিটি সরাতে হবে। যেহেতু মূর্তিটি বিশাল আকারের, ফলে মূর্তি নামাতে গেলে তা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, অগ্নিমিত্রা জানিয়েছিলেন, "পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে অনুমতি ছাড়া ওটা বানানো হয়েছে। বিরাট একটা পেডেস্টাল বানানো হয়েছে সেটা পুরোপুরি বেআইনি। সেই পেডেস্টালটা ভাঙা হবে। কিন্তু মূর্তিটা যাতে কোনওভাবে নষ্ট না হয়, আমরা সেটার ব্যবস্থা করব।" সূত্রের খবর, ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশাসনের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মূর্তিকে সুরক্ষিত রাখতেই হবে। মূর্তির শিল্পী মণ্টি পাল আগে জানিয়েছিলেন, আলাদা আলাদা অংশ তৈরি করে সেগুলো জুড়ে দিয়ে তৈরি হয়েছে মূর্তিটি। ফলে সেটা স্থানান্তর খুবই কঠিন।
