১৯৫৮ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই মহাতারকা হয়ে উঠেছিলেন পেলে (Pele)। এবার নিলামে উঠতে চলেছে সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির পরা ঐতিহাসিক নীল জার্সি। বিশ্বকাপ চলাকালীন জুলাই মাসে ‘সদবি’-র নিউ ইয়র্ক নিলামকেন্দ্রে যা হওয়ার কথা। পেলের এই জার্সির দর অন্তত ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৬৮ বছর আগে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন পেলে। ১৭ বছরেই নজর কেড়ে নেন তিনি। নকআউটে টানা তিন ম্যাচে গোল করে ব্রাজিলকে প্রথমবার বিশ্বজয়ী করতে বড় ভূমিকা ছিল পেলের। ফাইনালে সুইডেনের বিরুদ্ধে নীল জার্সি পরে খেলে ব্রাজিল। যে জার্সি পরার নেপথ্য-গল্প আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। পেলে লিখেছেন, ‘দলের অনেকেই নীল জার্সি পরার বিরুদ্ধে ছিল। তারা মনে করত, নীল অশুভ। কিন্তু আমাদের কর্তা ড. পাওলো বিষয়টি দারুণভাবে সামলান। তিনি সকলকে বোঝান, নীল সৌভাগ্যের প্রতীক। কারণ এটা আমাদের পেট্রন সেন্ট নোসা সেনোরা ডে অ্যাপারেসিডার রং।’
নিলামে উঠতে চলেছে এই জার্সিই।
সেবার ফাইনালে জোড়া গোল করেছিলেন পেলে। সেই জার্সি তিনি উপহার দিয়েছিলেন সতীর্থ তারকা ডিডি-কে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার ডিডি-র পরিবারের কাছে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তা গচ্ছিত ছিল। এরপর আর এক সাম্বা কিংবদন্তি ডিডা-র নামাঙ্কিত স্পোর্টস মিউজিয়ামে সেই জার্সি দান করেন ডিডি-র পরিবার। ২২ বছর আগে লন্ডনে একবার নিলাম হয় সেই জার্সি। সেবার দাম ওঠে ৫৯ হাজার পাউন্ড। ফের নিলামে ওঠা সেই জার্সির জন্য ১৬ জুলাই পর্যন্ত বিড করার সুযোগ থাকছে। যেখানে জার্সির দর একশো গুণ বেশি উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
‘সদবি’র অন্যতম কর্তা ব্রেন্ডন হকস আবার পেলের ঐতিহাসিক জার্সির মাপ দেখে চমকে গিয়েছিলেন। “৭০ বছরের পুরনো হলেও জার্সিটা দারুণ অবস্থায় আছে। নীল রংটা এখনও উজ্জ্বল”, বলছিলেন তিনি, “তবে অবাক হয়েছিলাম জার্সির মাপ দেখে। বেশ ছোট। এমনিতে পেলের চেহারা বিশাল কিছু ছিল না। আর তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে জার্সিটা পরেছিলেন। তবে সেসময়ের ছবি দেখলে বোঝা যাবে, তখনও জার্সিটা পেলের গায়ে বেশ ছোট হয়েছিল।” ফুটবল জার্সির মধ্যে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর উঠেছে দিয়েগো মারাদোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ম্যাচের জার্সির। ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের সেই জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৯.৩ মিলিয়ন ডলারে। পেলের জার্সিও তার কাছাকাছি দর পাবে বলেও মনে করছেন হকস।
