পাঁচবারের বিশ্বজয়ী দল ব্রাজিল (Brazil Football Team)। আজ পর্যন্ত যে শৃঙ্গ পৃথিবীর অন্য কোনও দলের পক্ষে ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু বিগত কুড়ি বছর ধরে ব্রাজিল ফুটবলের পতন ঘটেছে নিঃসন্দেহে। শেষ বিশ্বকাপ জয় ২০০২ সালে। যার পর চব্বিশ বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু সেলেকাওরা বিশ্বজয়ী আর হতে পারেনি। ট্রফি পাওয়া দূরস্থান, গত পাঁচ বিশ্বকাপের একটাতেও ফাইনাল খেলতে পারেনি ব্রাজিল। মেরেকেটে সেমিফাইনাল। আর মধ্যে আবার ২০১৪ বিশ্ব কাপ সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে সাত গোল খাওয়ার মহালজ্জাও রয়েছে।
এবারও যে ভিনিসিয়াস-রাফিনহাদের নিয়ে লম্ফঝম্ফ চলছে, তা নয়। নেইমার আছেন। এনড্রিক রয়েছেন। মার্কুইনহোস-গ্যাব্রিয়েল মাঘেলাসের মতো ডিফেন্ডার রয়েছেন। সর্বোপরি, ব্রাজিল কোচ হিসেবে রয়েছেন কিংবদন্তি কার্লো আন্সেলোত্তি। যাঁকে সবাই একবাক্যে ফুটবল বিশ্বের নমস্য কোচদের একজন হিসেবে মনে করে। কিন্তু তার পরেও ২০২৬ বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) জয়ের ক্ষেত্রে ব্রাজিলকে কেউ ফেভারিট ধরছে না। ব্রাজিল ফুটবলের কিংবদন্তি রোমারিওই দেশজ দলকে পাত্তা দিচ্ছেন না। এ হেন অবজ্ঞা আঁতে ঘা দিচ্ছে পাঁচ বারের বিশ্বজয়ীদের। নইলে টিমের মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস আর বলবেন কেন, "ব্রাজিলকে যেন কেউ হালকা ভাবে না নেয়। বরং প্রাপ্য মর্যাদাটা যেন দেয়। আমাদের হালকা করে নিলে, তার ফল ভুগতে হবে।"
কিন্তু মুখে বললেই চলে না। কাজেও করে দেখাতে হয়। বিশ্বকাপ দূরস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে কোপা আমেরিকাও বা কবে জিতেছে ব্রাজিল? যদিও ব্রুনো আত্মবিশ্বাসী। ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলে দিয়েছেন, "দু'টো ফ্রেন্ডলি খেলে, দু'টোতেই জিতলাম। ভালো ছন্দে রয়েছে টিম। আমাদের হাতে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আরও সময় রয়েছে। কিন্তু এখনই নিজেদের তৈরি মনে হচ্ছে। একবার বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলে সবাই ভুলে যাবে, অতীতে কী ঘটেছিল। আশা করছি, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারব আমরা।"
আগামী ১৩ জুন ভারতীয় সময় রাত সাড়ে তিনটেয় বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচ শক্তিশালী মরোক্কোর বিরুদ্ধে। গ্রুপে সেলেকাওদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি আর স্কটল্যান্ড। তবে একটাই আশার কথা। ট্রেনিং না শুরু করলেও মাঠে নামার জায়গায় প্রায় এসে গিয়েছেন নেইমার। যিনি কি না ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠ ভরসা। সর্বশেষ এমআরআই করে দেখা গিয়েছে, নেমারের চোটের উন্নতি হয়েছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কবে তিনি নামেন।
