২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা সমর্থকরা। তাই 'ইস্টবেঙ্গল উত্তরাধিকার' সমষ্টির উদ্যোগে কলকাতার যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডে অভিনব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রবল বৃষ্টিকে তোয়াক্কা না করেই ভারতজয়ের উত্তাপ বুকে নিয়ে অগণিত ইস্টবেঙ্গল সমর্থক অনুষ্ঠানে ভিড় জমান।
যাদবপুর-টালিগঞ্জ অঞ্চল উদ্বাস্তু আন্দোলনের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেকথা মাথায় রেখেই 'উদ্বাস্তুদের সংগ্রাম ও ইস্টবেঙ্গল' নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণ করেন সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত, ক্রীড়া সাংবাদিক রূপক সাহা, অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী, 'লক্ষ্মীছাড়া' বাংলা ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা গৌরব চট্টোপাধ্যায় (গাবু), সমর্থক দেবাদৃতা ও সায়ন।
এছাড়াও ভারতসেরা মহিলা দলের খেলোয়াড় সাথী দেবনাথ ও পুরুষ দলের খেলোয়াড় প্রভাত লাকড়াকে সংবর্ধিত করেন উদ্যোক্তারা। উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের 'ঘরের ছেলে' কিংবদন্তি প্রাক্তনীরাও। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিকাশ পাঁজি, মেহতাব হোসেন ও আলভিটো ডি কুনহা'কে পেয়ে আবেগে ভাসেন সমর্থকরা। সম্মানিত করা হয় ক্লাবকর্তা কল্যাণ মজুমদার, দীপ্তেন বসু, প্রবীর দাস, রজত গুহকেও।
ক্লাবকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হন যাদবপুরের প্রাক্তন সাংসদ-বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীও। কার্নিভ্যাল শেষ হয় প্রখ্যাত শিল্পী অর্ক মুখার্জি ও গাবুর গান দিয়ে। কলোনির পথচলা থেকে মাঠের লড়াই, ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস নিয়ে পারিজাত মৈত্র ও অঙ্কিত সেনগুপ্তর সহায়তায় নির্মিত একটি তথ্যচিত্রও দেখানো হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম থেকে গৌতম চট্টোপাধ্যায়, নানা ধরনের পরিচিত গানের সুরে গলা মেলান পথচলতি মানুষও। প্রত্যেকের কথাতেই ফুটে ওঠে ইস্টবেঙ্গলের লড়াকু ইতিহাসের গরিমা। এবারের জয় এক নতুন যাত্রার সূচনা করল বলেই মত বক্তাদের। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ি ও অন্বিতা চন্দ। উদ্যোক্তাদের অন্যতম অবিন দত্তগুপ্ত ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ও শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
