ডুরান্ড ফাইনালে (Durand Cup Final 2026) বিধ্বংসী ইস্টবেঙ্গল। ৪-১ গোলে মোহনবাগানকে হারিয়ে ১৭তম ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল লাল-হলুদ বাহিনী। মোহনবাগানের হাতে বিদেশি শক্তি বেশি ছিল। সেখানে ইস্টবেঙ্গল যে ডুরান্ড ফাইনালে ডার্বিতে (Kolkata Derby) সবচেয়ে বেশি গোলের নজির গড়ে জিতবে, তা হয়তো অনেকে আশা করেননি। ডুরান্ডের পাঁচটা গোলই এল ভারতীয়দের পা থেকে। কোথায় সবুজ-মেরুনকে পিছনে ফেলে দিল ইস্টবেঙ্গল? রইল ৫ কারণ।
বিধ্বংসী 'ঘরের ছেলে' এডমুন্ড: ২০২০-তে বেঙ্গালুরু থেকে লোনে ইস্টবেঙ্গলে এসেছিলেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। এরকমই এক ডার্বি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। সেই ম্যাচের অঙ্কও বদলে দিতে পারতেন এডমুন্ড। এত বছর পরেও সেদিনের কথা মনে রেখে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য 'ঘরের ছেলে' তিনি। এদিন যুবভারতীতে ১১, ২২, ৪৪ মিনিটে গোল করে এডমুন্ডই নায়ক। গতিশীল, পরিশ্রমী, সুযোগসন্ধানী 'মিজো মিসাইল'কে আটকানোর কোনও ক্ষমতাই ছিল না মোহনবাগানের কাছে।
নায়ক এডমুন্ড লালরিন্ডিকা।
লড়াকু আনোয়ার-রশিদ: গোল করে এডমুন্ড জিতিয়েছেন ঠিকই, তবে প্রশংসা প্রাপ্য আনোয়ার আলি ও মহম্মদ রশিদেরও। ইস্টবেঙ্গলে ফাঁকফোকর প্রচুর। সতীর্থ হার্দিক ভাট, সন্দীপ মান্ডিরা অনভিজ্ঞ। সেই ঘাটতি মিটিয়ে দিলেন আনোয়ার আলি। যেন চুম্বকের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সব বল তাঁর কাছে জমা পড়ছিল। বা এতটাই ভালো তাঁর পজিশনিং। অন্যদিকে মহম্মদ রশিদ আক্ষরিক অর্থেই দলের অধিনায়ক। যেরকম লোড নিচ্ছিলেন, যেন চারটে ফুসফুস নিয়ে নেমেছিলেন। রক্ষণ থেকে আক্রমণ, সর্বত্রই হাজির রশিদ।
হাবাসের মগজাস্ত্র ও প্যানোসের ভুল: আন্তোনিও লোপেজ হাবাস কেন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা কোচ, তা প্রমাণ করে দিলেন। মরশুমের শুরুতে ডার্বিতে হার। কিন্তু কদিনের মধ্যে বুঝে গেলেন, তাঁর হাতে ঠিক কী মালমশলা আছে! ভারতীয় ব্রিগেডকে পুরো সাজিয়ে নিলেন। এদিন জয় গুপ্তাকে উইংয়ে খেলিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন। বক্স স্ট্রাইকার নেই। কিন্তু দানি রামিরেজ ও এডমুন্ড জুটিতেই কামাল করে দিলেন। ঠিক ততটাই ভুল করলেন মোহনবাগানের কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস। কেন সাহাল আবদুল সামাদ প্রথম দলে নেই? কেন সেই লিস্টনই প্রথম একাদশে? আনফিট জেমি ম্যাকলারেন শুরু থেকে খেলবেন? কেন আপুইয়া এতক্ষণ মাঠে থাকবেন? প্রশ্ন অনেক। উত্তর নেইই।
হতাশ মোহনবাগান।
মোহনবাগানের জঘন্য রক্ষণ: ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে কোনও বিদেশি নেই। সবুজ-মেরুনে আলবার্তো রড্রিগেজ আছেন। ঠিক কোন ভূমিকায় আছেন? 'বয়স্ক' রাহুল ভেকেই বা দলে কীভাবে সুযোগ পান? দু'জনের মধ্যে তালমিলের যথেষ্ট অভাব। গতিতে অনায়াসে তাঁদের পিছনে ফেলা যায়। সেটাই হল। বিপিন-এডমুন্ড সেটাই করলেন। মাঝমাঠে আপুইয়ার অবস্থাও বেশ খারাপ। এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকের গোলটা তো আপুইয়া-ভেকে মিলে উপহার দিলেন। তাছাড়া ক্লান্তিও একটা বড় সমস্যা। শিলং থেকে সেমি জিতে এসে অনুশীলনের সময়ই পায়নি মোহনবাগান।
'অদৃশ্য' ম্যাকলারেন: গোলের সুযোগ কি মোহনবাগানের কাছে আসেনি? মনবীর একটি গোল শোধ করেন। কিন্তু জেমি ম্যাকলারেন যে ভুলগুলো করলেন, সেগুলো না হলে অনায়াসে হ্যাট্রট্রিক করে যেতে পারতেন। বোঝাই যাচ্ছিল আনফিট। তাছাড়া তিনি যেন গোল না করবেন না বলে ঠিক করে রেখেছিলেন। ইস্টবেঙ্গলকে গতবার ভারতসেরা করানোর পর মিগুয়েল এদিন বদলি হিসেবে নেমেছিলেন সবুজ-মেরুন জার্সিতে। তিনিও নিষ্প্রভ রইলেন।
