যুবভারতীতে মহারণ। আজ বিকালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে (Durand Cup Final 2026) মুখোমুখি কলকাতার দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। চলতি ডুরান্ড কাপেই একবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তবে সেই ডার্বির থেকে রবিবারের ডার্বি (Kolkata Derby) অনেকটাই আলাদা। প্রথম ডার্বির আগে সেভাবে প্রস্তুতির সময় পায়নি কেউই। সময় পাননি কোচেরাও। তাছাড়া রবিবার এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাদী দুই দল। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা অনেকটাই বেশি।
সেই প্রত্যাশাপূরণে কোন দল কতটা প্রস্তুত? কাদের শক্তি বেশি। কোন দলের দুর্বলতাই বা কি?
মোহনবাগান:
এমনিতে খাতায় কলমে ধরলে, রবিবার স্বদেশি থেকে বিদেশি সব বিভাগে ইস্টবেঙ্গলের থেকে এগিয়ে মোহনবাগান। ম্যাকলারেন, মিগুয়েল। দুই ক্ষুরধার বিদেশিকেই সামান্য সময় হলেও সেমিফাইনালে খেলিয়ে ম্যাচের মধ্যে রেখেছেন মোহনবাগান কোচ। সেই সঙ্গে দুর্দান্ত ফর্মে মনবীর, সাহালের মতো ভারতীয় তারকারা। গ্রিক কোচ প্যানোসের মগজাস্ত্রও কম যায় না। তবে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত গোলরক্ষক বিশাল কাইথের হাত। বিশাল বছরের পর বছর ধরে তেকাঠির নিচে সবুজ-মেরুনের দুর্গরক্ষা করছেন সমান দক্ষতায়।
সবুজ-মেরুনের মূল দুর্বলতা ক্লান্তি আর পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব। মাত্র ৬ দিনে ৩ ম্যাচ খেলতে হচ্ছে সবুজ-মেরুনকে। তার মধ্যে একটা আবার পাহাড়ে। সেই সঙ্গে টিকিট সমস্যায় কিছু ফুটবলার কলকাতায় ফিরছেন ডার্বির দিন সকালেই। এর বাইরে সবুজ-মেরুনকে চিন্তায় রাখবে রক্ষণভাগের জড়তা।
ইস্টবেঙ্গল:
ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় শক্তি কোচ হাবাসের অভিজ্ঞতা। ইদানীং কালে ভারতীয় ফুটবলের সফলতম কোচ। তাঁর ডিফেন্সিভ সিষ্টেম এতটাই ভালো যে, সেমিফাইনালে দিল্লির বিরুদ্ধে করা ভুলগুলি ফাইনালে করবেন বলে মনে হয় না সন্দীপ মান্ডি, জয় গুপ্তরা। আনোয়ার, লালচুংনুঙ্গারা রক্ষণের স্তম্ভ। গোলরক্ষণ প্রভসুখন গিলও প্রায় সমানে সমানে টক্কর দেবেন বিশাল কাইথকে।
লাল-হলুদের দুর্বলতা হল পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাব। হাবাসের হাতে বিদেশি বলতে রশিদ। র্যামিরেজ এখনও সেরকম ফর্মে উঠতে পারেননি। ইকোনোমিডিসও সেরকম নয়। কাকে দিয়ে গোল তুলে আনবেন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ইস্টবেঙ্গল কোচের সামনে। আগের ম্যাচগুলিতেও এই স্ট্রাইকারের অভাব ভুলিয়েছে লাল-হলুদকে। সেই সঙ্গে চোটের জন্য পিভি বিষ্ণুর না থাকাটাও ফ্যাক্টর হতে পারে। আরও একটা বড় চিন্তা আছে ইস্টবেঙ্গলের। সেটা হল ২২ বছরের ডুরান্ড জয়ের অপেক্ষার প্রত্যাশা পূরণ। সদ্য আইএসএল জিতে ঠিক এই একই ধরনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে লাল-হলুদ শিবির।
