সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত হলেন ইস্টবেঙ্গলের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম আমেদ খান। বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়িতে রবিবার বিকেল ৩.৪৫ নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০। কিংবদন্তী ফুটবলারের মৃত্যুতে লাল-হলুদ শিবিরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
[কামো-ক্রোমার যুগলবন্দিতে কাস্টমসের বিরুদ্ধে সহজ জয় বাগানের]
১৯৪৯ থেকে ইস্টবেঙ্গল তাঁর ঘরবাড়ি। সুদূর বেঙ্গালুরু থেকে এসে এই ক্লাবকে আপন করে নিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ফুটবল ছিল তাঁর রক্তে। বাবা মেহমুদ খান সেই সময়ের নামকরা ফুটবলার ছিলেন। আমেদের তিন ভাইয়েরও ধ্যানজ্ঞান ফুটবল। বেঙ্গালুরুর ক্রিসেন্ট ক্লাবে তাঁর হাতেখড়ি হয়। এমনকী বাবার সঙ্গেও খেলেছিলেন আমেদ খান। এরপর ক্রিসেন্ট ক্লাব ছেড়ে বেঙ্গালুরু মুসলিম ক্লাবে যোগ দেন। সেই সময় বেঙ্গালুরুর এই ক্লাবটি খ্যাতির চূড়োয় উঠেছিল। ১৯৪৮ সালে মোহনবাগানকে হারিয়ে রোভার্স কাপ জয়ী ইস্টবেঙ্গলের সদস্য ছিলেন। বেঙ্গালুরু মুসলিম-এর হয়ে দুরন্ত পারফরমেন্সের জন্য এই কৃতী ফরোয়ার্ড জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে লন্ডন ওলিম্পিকসের টিমে ছিলেন তিনি। অলিম্পিক্সে যাওয়ার আগে জাতীয় দলের প্রি-সিজন ক্যাম্প চলছিল শিলংয়ে। সেখানেই তাঁকে আবিষ্কার করেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা জ্যোতিষ গুহু। পরের বছরই আমেদ খানকে ইস্টবেঙ্গলে সই করান জ্যোতিষ গুহ। তারপরের ঘটনা ইতিহাস।
[ঘোষিত হল ইস্ট-মোহন ডার্বির দিন, জেনে নিন কবে কোথায় খেলা]
ইস্টবেঙ্গলে শুরু হয় পঞ্চপাণ্ডব যুগ। আপ্পারাও, ভেঙ্কটেশ, সালে, ধনরাজ এবং আমেদ খানকে নিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত পঞ্চপাণ্ডবের জমানায় লাল-হলুদ ৩৪৭টি গোল করে। ধনরাজ ১১৪টি গোল করে সবার আগে ছিলেন। ধনরাজকে গোলের বল সাজিয়ে দিতেন এই আমেদ। নিজেও ৩৫টি গোল করেছিলেন। আমেদদের জন্য ইস্টবেঙ্গল ১৯৪৯ সালে ত্রিমুকুট পায়। লিগ, শিল্ড এবং রোভার্স জয়ে পঞ্চপাণ্ডবের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর দু’বছর পর প্রথম ভারতীয় দল হিসাবে ডুরান্ড পায় ইস্টবেঙ্গল। ১৯৫৩ সালে গঙ্গাপারের এই ক্লাব রোমানিয়ার বুখারেস্টে বিশ্ব যুব কংগ্রেস টুর্নামেন্টে ডাক পেয়েছিল। সেই প্রতিযোগিতায় ছাপ রেখেছিলেন আমেদ খান। টুর্নামেন্টে চতুর্থ হয়েছিল লাল-হলুদ। ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখে তৎকালীন ইউএএসআর কলকাতার এই ক্লাবকে তাদের দেশে খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
[ডিকার হ্যাটট্রিকে পিয়ারলেসকে পাঁচ গোলে হারাল মহামেডান]
দু’পায়েই দুর্দান্ত দুরন্ত শট নেওয়ার ক্ষমতা ছিল আমেদ খানের। গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়াতে তাঁর বিকল্প ছিল না। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত চুটিয়ে খেলার পর লাল-হলুদ ছেড়েছিলেন আমেদ খান। তবে ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল একইরকম। ইস্টবেঙ্গল তাঁকে শতাব্দীর সেরা ফরোয়ার্ড হিসাবে সম্মানিত করেছিল। এবছর আই লিগের ম্যাচ খেলতে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ ফুটবলাররা তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক দিয়েছিলেন। কিংবদন্তীর প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান হল।
The post প্রয়াত হলেন পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম আমেদ খান appeared first on Sangbad Pratidin.
