কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর হস্তক্ষেপে অবশেষে কেটেছে আইএসএল জট। দেরিতে হলেও সংক্ষিপ্ত আকারে শুরু হতে চলেছে আইএসএল। খেলা হবে ‘সুইস মডেলে’। প্রতিটি দল প্রত্যেক দলের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলবে। সব মিলিয়ে ম্যাচ হবে মাত্র ৯১টি। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বেতন কমিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিলেন এফসি গোয়ার প্রথম দলের সকল ফুটবলার-সহ সাপোর্ট স্টাফরা। ক্লাবের তরফে এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে এফসি গোয়া।
বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, 'ভারতীয় ফুটবলের অনিশ্চয়তায় আমাদের ক্লাবও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সৎভাবে আলোচনা করেছি। এরপর যা ঘটল, তা আমাদের গর্বিত করেছে। আমাদের প্রথম দলের খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফরা এগিয়ে এসেছেন। তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্লাবের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁরা বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।'
এফসি গোয়া আরও লিখেছে, 'এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়, বরং নিঃস্বার্থ। তাঁদের এই পদক্ষেপে আমরা অভিভূত। কৃতজ্ঞ। ক্লাবের প্রতীকের জন্য এভাবে লড়াইয়ে শামিল হওয়ায় অজস্র ধন্যবাদ। এভাবেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাব।' এফসি গোয়ায় সন্দেশ ঝিঙ্ঘান, উদান্তা সিং, বরিস সিংয়ের মতো তারকা রয়েছেন। প্রত্যেকেই ক্লাবের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করলেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দল নিয়ে আইএসএল শুরু হওয়ার কথা। যদিও লিগ শুরু হলেও সমস্ত ক্লাবকেই বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আইএসএল বাঁচাতে কমাতে হতে পারে ফুটবলারদের বেতনও। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচাতে সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলেছিলেন বেঙ্গালুরু এফসি কর্ণধার পার্থ জিন্দালও। এক্স হ্যান্ডেলে জিন্দাল লিখেছিলেন, ‘বর্তমান ফর্ম্যাটে আইএসএল খেলতে গেলে সকল ক্লাবের কাছেই বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে বলা হচ্ছে। যা সত্যিই অভাবনীয়। লিগ না হলে এর পরিণতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হবে। এই সুযোগে মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে তাঁর হস্তক্ষেপ ও প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আশা করি, ফুটবলাররা ক্লাবগুলোর ওপর পড়া অতিরিক্ত আর্থিক চাপটা বুঝবেন। তাঁরাও ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি হবেন। কারণ আমরা একই সঙ্গে এই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি।’ এই কথার রেশ কাটতে না কাটতেই গোয়ার ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফরা নিজেদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। এখন দেখার, আইএসএলের অন্যান্য ক্লাবের ফুটবলাররা একই পথে হাঁটেন কি না।
