দেশে বারুদের গন্ধ। যখন-তখন হামলা করছে আমেরিকা-ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র। ইতিমধ্যে ইরানে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশের মাঠে ফুটবলের লড়াইয়ে নেমেছে ইরানের মহিলা ফুটবল দল। এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ইরান ৩-০ গোলে হারল ঠিকই, কিন্তু চর্চায় ম্যাচ শুরুর আগের মুহূর্ত। জাতীয় সঙ্গীতের সময় চুপ রইলেন মহিলা ফুটবলাররা। মনে করা হচ্ছে, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে 'খুশি' হয়েই পুরনো জাতীয় সঙ্গীত 'বয়কট' করেছেন মহিলা ফুটবলাররা।
খামেনেইয়ের শাসনকালে ইরানে নারী স্বাধীনতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। হিজাব বিরোধী আন্দোলনে নেমে নীতি পুলিশের হাতে মহিলা প্রতিবাদীর খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমেরিকার অপারেশন ‘সিংহগর্জন’-এ খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর অনেক মহিলাকে আনন্দে উদ্বেল হতে দেখা গিয়েছে। দেশে যখন এই অবস্থা, তখন তেহরান থেকে বহু দূরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে এশিয়ান কাপে নেমেছে ইরানের মহিলা দল। প্রথম ম্যাচে নামতে হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষর বিরুদ্ধে।
ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় মুখ খুললেন না ইরানের কোনও ফুটবলার। যখন তাঁদেরকে ক্যামেরায় ধরা হল, তখন তাঁদের মুখ পুরো নির্বিকার। জাতীয় সঙ্গীতের সময় একবারও ঠোঁট নড়েনি। ইরানের কোচ মারজিয়েহ জাফারিও সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে শুরু মুচকি হাসলেন। তাঁদের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দেশ ছাড়ার আগে তাঁদের আদেশ দেওয়া হয়েছিল জাতীয় সঙ্গীত গাইতেই হবে। ১৯৯০ সালে খামেনেইয়ের আমলে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে এটিকে গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামে দেখা গেল ইরানের 'সিংহ-সূর্যের' ৪৭ বছর পুরনো পতাকা।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনেও খামেনেই ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় ইরান দলকে। কিন্তু কোচ বা অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিকে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দেওয়া হয়নি। এএফসি'র প্রতিনিধি বলে দেন, "এই প্রশ্নটা থাক। খেলা নিয়েই আলোচনা করা যাক।" ইরানের প্রতিক্রিয়া তখন জানা যায়নি। শেষ পর্যন্ত মাঠেই জবাব দিলেন তাঁরা।
স্টেডিয়ামের ইরানের পুরনো পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
