টানা তিন ম্যাচে টানা জয় এবং ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে দল। তবুও আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনও সুযোগ নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। মহামেডান স্পোর্টিংকে পাঁচ গোলে হারিয়ে মোহনবাগান কোচ বলছিলেন, "আমরা ভালো শুরু করেছি, কিন্তু এটা কেবল শুরু। এখনও অনেক পথ বাকি। আজ আরও গোল করার সুযোগ ছিল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আমরা জিতেছি এবং শীর্ষে আছি।"
১৩ ম্যাচের লিগে খুব একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান না বললেও মহামেডান ম্যাচে প্রচুর রোটেশন করেছেন। দলে রোটেশন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ট্রফি জিততে হলে পুরো স্কোয়াডকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। "সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। যারা মহামেডান ম্যাচ খেলেছে, তারা নিজেদের প্রমাণ করেছে। দীর্ঘ লিগে সাফল্য পেতে গেলে পুরো দলকেই তৈরি থাকতে হয়,” বলেন তিনি। মহামেডানের বিরুদ্ধে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিলেন। পরে পাঁচ গোল। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট সম্পর্কে কোচ বলছিলেন, দলের মানসিক দৃঢ়তাই ছিল সাফল্যের চাবিকাঠি। "প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ছেলেরা ধৈর্য ধরে নিজেদের খেলাটা খেলেছে। তাদের প্রতিক্রিয়া এবং মনোভাব আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করেছে।” পরের ম্যাচেই প্রতিপক্ষ তাঁর প্রাক্তন দল ওড়িশা এফসি। পুরনো দলের বিরুদ্ধে খেলার আগে স্বাভাবিকভাবেই আবেগতাড়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবেগের প্রসঙ্গ উঠলেও কোচ পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে দলের প্রস্তুতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে রবসনের চোট নিয়ে সেরকম ভয়ের কোনও কারণ আছে বলে মনে হয়নি তাঁর। জানালেন, ভালোভাবে দেখে নিয়ে জানাতে পারবেন। জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেন ব্রাজিলিয়ান রবসন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, "আমার গোলের থেকেও দলের তিন পয়েন্ট পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সোজা কথা, আমরা লিগটা জিততে চাই, তাই প্রতিটি ম্যাচ আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।" নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের উন্নতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। "জিমে এবং অনুশীলনে অনেক পরিশ্রম করেছি। এখন আমি পুরোপুরি ফিট এবং দলের জন্য সেরাটা দিতে প্রস্তুত।" গোল উদযাপনের সময় পেশীতে সামান্য টান অনুভব করলেও তিনি খেলা চালিয়ে যান। "দলকে সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব। অস্বস্তি আছে, তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠব," বলেন তিনি।
