শৃঙ্খলারক্ষা করতে ব্যর্থ ইজরায়েল! এবার ফিফার শাস্তির কবলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতেতেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইজরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে ফিফা। ভারতীয় মূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তাদের বিরুদ্ধে 'আপত্তিকর ও ফায়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন' এবং বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ'-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার কাছে ইজরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তোলে। দেই অভিযোগের ভিত্তিতে দেড় বছর আগে তদন্তও শুরু হয়। এমনকী তাদের বিরুদ্ধে সদস্য পদ স্থগিতের দাবিও জানানো হয়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রথমে পদক্ষেপ নেয়নি। তবে তাদের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ইজরায়েল ফুটবলের সভাপতির আচরণে ক্ষুব্ধ। পশ্চিম সীমান্তের ক্লাবগুলিকে ইজরায়েল তাদের দেশের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিচ্ছিল। যা ফিফার নিয়মবিরুদ্ধে। এতে প্যালেস্তাইনের ফুটবলে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এই বিষয়ে গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র চলাকালীন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, ভূরাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করা ফিফার কাজ নয়। তবে ফুটবলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে শান্তি এবং পারস্পরিক সেতুবন্ধনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ফিফার বিচারকরাও তাতে সায় দিয়েছিলেন। ফুটবলকে শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আলোচনার মাধ্যমেই শৃঙ্খলিত রাখার কথা বলেছিলেন তাঁরা।
ফিফা সভাপতি বলেন, "পশ্চিম সীমান্তের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনও নির্ধারিত নয়। আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকেও তা অত্যন্ত জটিল।" তবে ইজরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসে ফিফা। শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হল তাদের। এছাড়াও ইসরায়েলকে তাদের পরবর্তী তিনটি আন্তর্জাতিক হোম ম্যাচে 'ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে, বৈষম্যকে নয়' বার্তা-সহ ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
