লিওনেল মেসি বাদে যেটুকু নিজের নামের প্রতি এখনও পর্যন্ত সুবিচার করতে পেরেছেন তিনি এমবাপে। মেসি তিনটে গোল করে, এমবাপে করেছেন ২ গোল। মেসির আর্জেন্টিনা যেরকম জিতেছে, ফ্রান্সও প্রথম ম্যাচে জিতেছে। বাকি অপর দুই তারকার একজন নেইমার, এখনও পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেননি। ব্রাজিল সবে প্রথম ম্যাচে জিতেছে। আরেকজন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তিনি যেমন গোল পাননি, পর্তুগালও প্রথম ম্যাচ জেতেনি। ফলে তারকার বিচার বা আমেরিকার জনমানসে প্রভাব বিস্তারে এই মুহূর্তে লিওনেল মেসি বাকি সব তারকাকে পাঁচ গোল দিয়ে বসে আছেন। আর মার্কিনিরা এই মুহূর্তে এতটাই মেসি-ম্যানিয়ায় নিমজ্জিত যে, পরের ম্যাচ ডালাসে এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ম্যাচের টিকিট ঘিরে দেদার কালোবাজারি হচ্ছে। আর সেই কালোবাজারির দাম শুনলে চক্ষ চড়ক গাছ হয়ে যাবে। গ্যালারির টিকিটের স্বাভাবিক দামের থেকে কালো বাজারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি দামে।
পরের আর্জেন্টিনা ম্যাচ কভার করার জন্য যেহেতু ডালাসে যেতে হবে, তাই একটু খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম। তাতে যা জানতে পারলাম, তাতে তো চেয়ার ছেড়ে পড়ে যাওয়ার যোগাড়। ম্যাচের হসপিটালিটি বক্সের টিকিটের দাম ডালাসের কালোবাজারিতে এই মুহূর্তে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার। হ্যাঁ, ঠিকই পড়লেন। গ্রুপ লিগে মেসির একটি ম্যাচ দেখার জন্য এখন এই দামেই টিকিট পাওয়া যেতে পারে। আর লিগের বাকি দুটো ম্যাচের পাশাপাশি যদি নক আউটের ম্যাচটাও ধরে নেন, তাহলে কালোবাজারিদের কাছে একসঙ্গে প্যাকেজে মেসি ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৭ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার। যা ডালাসের ইতিহাসে কেন, আমেরিকার ইতিহাসেই একটি ‘সকার’ ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ দাম !
গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে এই মুহূর্তে ডালাসে যা পাগলামি হচ্ছে, এক কথায় মার্কিন খেলাধুলোর ইতিহাসে তা অবিশ্বাস্য। এক মেসিকে কেন্দ্র করে মার্কিনিদের কাছে ‘সকার’ নিয়ে ভোল পুরো বদলে গিয়েছে। এইসব ভেবে আপনি যদি আমেরিকার অন্য জায়গাগুলিতেও সকার-কে ঘিরে একই রকম পাগলামোর চিত্র ভাবতে থাকেন, তাহলে ভুল করছেন। এই পাগলামো, উত্তেজনা সবটাই মেসিকে কেন্দ্র করে।
এমনিতে ঠিক হয়েছে, রবিবার সকালে কানসাসের বেসক্যাম্পে প্র্যাকটিস করে বিকেলের চাটার্ড ফ্লাইটে ডালাস উড়ে যাবেন মেসিরা। এবং এখনও পর্যন্ত সাংবাদিক সম্মেলনে না আসা মেসি, সেদিনই হয়তো বিকেলে মূল স্টেডিয়ামে কোচ স্কালোনির সঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে আসবেন।
তার আগে মেসির বাবাকে নিয়ে কানসাসের প্র্যাকটিসে যা হল, তা আর কহতব্য নয়। প্রথম ম্যাচে আলিজিরিয়ার বিরুদ্ধে গোলের পর মাঠেই কাঁদতে দেখা যায় মেসিকে। আর তা নিয়েই রটে যায় যে, মেসির বাবা জর্জে রীতিমতো অসুস্থ। সেই কারণেই চোখে জল আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। এই খবরের সত্যতা জানার জন্য অন্য দিনের তুলনায়, এদিন কানসাসে প্র্যাকটিস সেশনে সাংবাদিকদের ভিড়ও ছিল বেশি। তবে মেসির পরিবারের তরফে পরিস্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, পুরোটাই রটনা। ভুয়ো খবর। আর মেসিও গম্ভীর থাকার বদলে বরং বেশিই হাসি খুশি ছিলেন এদিন। তবে দলের ট্যাকটিক্যাল দিক বলতে গেলে, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন স্কালোনি। এর পিছনে কারণ একটাই। মিডল থার্ড দিয়ে যেন মেসির কাছে বলের যোগান আরও বেশি করে যায়। সেরকম লাউতারো মার্টিনেজের বদলে আলভারেজকে প্রথম একাদশে নিয়ে আসার ব্যাপারেও ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন কোচ। তবে সোমবার ম্যাচের আগে হাতে যেহেতু এখনও সময় আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কয়েকদিন পরেই নিতে চান স্কালোনি।
