বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) ফের ভিসা-বিতর্ক। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল না কঙ্গোর 'সুপার ফ্যান' মিচেল এনকুকা এবোলাডিঙ্গাকে। যার ফলে ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দলের জয় দেখতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে হাজির হতে পারেননি তিনি। ফুটবলবিশ্বে মিচেল বেশ পরিচিত মুখ। কঙ্গোর সব ম্যাচেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকেন তিনি।
কঙ্গোর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার অনুকরণে সেজে গ্যালারিতে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকেন সারা ম্যাচ। ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সেদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন লুমুম্বা। তবে দ্রুতই প্রথম বিশ্বের নেতাদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৬১ সালে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় লুমুম্বাকে। তাঁর দেহ টুকরো করে অ্যাসিড দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। অভিযোগের আঙুল ওঠে কঙ্গো যাদের উপনিবেশ ছিল, সেই বেলজিয়ামের দিকে। শেষ পর্যন্ত এই খুনের কোনও বিচার না হলেও লুমুম্বাকে ভোলেনি আফ্রিকা। আজও গোটা মহাদেশের মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম মুখ তিনি।
আর কঙ্গোর ম্যাচে সেই যেন সেই রক্তাক্ত ইতিহাসকে মনে করানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন মিচেল। স্যামুয়েল মুথুস্বামীদের প্রতি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যায় মিচেলকে। নীল স্যুট পরে ডান হাত তুলে পুরো ম্যাচ দাঁড়িয়ে থাকেন। বিশ্বকাপে দলকে সমর্থন জানাতেও হাজির হয়েছিলেন তিনি। তবে পর্তুগালের বিরুদ্ধে কঙ্গোর প্রথম ম্যাচে হিউস্টনে যেতে পারেননি। আফ্রিকার দেশটিতে ইবোলা এবং ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তাই মার্কিন মুলুকে প্রবেশের পর মিচেলকে কোয়ারান্টিন করে রাখা হয়েছিল।
এরপর গুয়াদালাজারায় কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গালারিতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে মিচেলকে কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে আটলান্টায় আসার অনুমতি পাননি। যা পরিস্থিতি, রাউন্ড অফ ৩২-এ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও গ্যালারিতে দেখা যাবে না তাঁকে। কারণ আগামী বুধবার কঙ্গো সেই ম্যাচও খেলবে আটলান্টা স্টেডিয়ামে।
