পর্তুগাল শিবিরের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Ronaldo) নামটা সমার্থক। অন্তত শেষ পনেরো বছরে সমতুল্য দূর অস্ত, তাঁর ধারে কাছে আসার মতো কোনও নাম নেই একদা ইউরো-সেরাদের ভাঁড়ারে। ব্যতিক্রম নয় বিশ্বকাপও (FIFA World Cup 2026)। এবারের পর্তুগালের প্রসঙ্গ উঠলেই অবধারিতভাবে আলোচনায় চলে আসেছ সিআর-পর্ব।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। যে গুঞ্জন ইতিউতি শোনা যাচ্ছে, তা মোটেই সুমিষ্ট-ধ্বনি নয়। বরং তা যুদ্ধক্ষেত্রের সাইরেন। এ ক্ষেত্রে সেই সাইরেন বাজছে রোনাল্ডোকে খেলানো নিয়ে। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর বিরুদ্ধে যে পারফরম্যান্স এসেছ পর্তুগাল অধিনায়কের কাছ থেকে, তা প্রবল হতাশার। সারা ম্যাচে সবমিলিয়ে বার পঁচিশের বেশি বল ধরেননি তিনি। যা কিনা গোটা ম্যাচে খেলা সমগ্র পর্তুগিজ প্লেয়ারকূলের মধ্য সবচেয়ে কম। এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়, পরিবর্ত হিসেবে নামা ফ্রান্সিসকোরাও টপকে গিয়েছেন সিআরকে। বলার মতো কোনও আক্রমণে অংশ হতে পারেননি তিনি। বরং দেখা গিয়েছে, রোনাল্ডোর জন্য কখনও কখনও অ্যাডভান্টেজ হাতছাড়া হয়েছে। সেখানে তাঁর 'চিরশত্রু' লিওনেল মেসি রয়েছেন স্বপ্নের ফর্মে। দু'ম্যাচে করে ফেলেছেন পাঁচটা গোল।
এই পরিস্থিতিতে একটা স্বরই শোনা যাচ্ছে পর্তুগিজ শিবিরের আশপাশে। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে রিজার্ভ বেঞ্চে পাঠানো হোক রোনাল্ডোকে। যে কাজটা চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে করেছিলেন তৎকালীন কোচ ফের্নান্দো স্যান্তোস। অবশ্য পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও হয়েছে বিস্তর। তবে পূর্বসূরির পথে হাঁটতে নারাজ বর্তমান হেডস্যর রবার্তে মার্টিনেজ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই রোনাল্ডোহীন প্রথম একাদশ নামাবেন না। আর যাঁরা সমালোচনা করছে তাঁর অধিনায়কের, তাঁদের ফুটবলবোধ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান কোচ। এর আগে জোয়াও নেভেস কঙ্গো ম্যাচের পর বলেছিলেন, "রোনাল্ডোও দলের একজন সাধারণ সদস্য।" যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে আর একপ্রস্থ। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি দলের মধ্যেও সম্মান পাচ্ছেন না রোনাল্ডো? তবে উজবেকিস্তান ম্যাচের আগে সতীর্থদের একাংশের অকুন্ঠ সমর্থন পাচ্ছেন পর্তুগাল মহাতারকা। রুবেন ডিয়াস যেমন বলে দিয়েছেন, রোনাল্ডোর উপর সমালোচনা কোনও প্রভাব ফেলে না। প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে দিয়েগো দালোতের মুখেও।
তবে পরিস্থিতি যাই হোক, রোনাল্ডো মুখিয়ে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠতে। কারণ তাঁর কাছেও লড়াইটা সম্মানরক্ষার। নিজের চেনা অবতার ফেরানোর। বলা যায়, নিজের ব্যর্থতার সঙ্গেই লড়াইয়ে নামবেন তিনি। সেখানে অবশ্য উজবেকিস্তানের মতো প্রতিপক্ষ রোনাল্ডোর ভাবনা কমাবে। এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে মধ্য এশিয়ার দেশটি। উদ্বোধনী ম্যাচে তারা হেরেছে কলম্বিয়ার কাছে। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চোটের জন্য নেই পর্তুগাল ডিফেন্ডার টমাস আরাউহো। পরিবর্ত হচ্ছেন ডিয়াস। রাইট উইং হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কনসেসাও। তবে প্রথম একাদশ যা-ই হোক না কেন, হিউস্টনে নজরে শুধু একজনই। রোনাল্ডো। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
