তিনি নাকি দলের বোঝা। তাঁকে দলে রাখা মানে নাকি আসলে ১০ জনের টিম নামানো। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে গত এক সপ্তাহ বহু কথা বলেছেন ফুটবলবোদ্ধারা। নিদান দিয়েছেন, সিআর সেভেন প্রথম একাদশে থাকারই যোগ্য নন। কিন্তু রোনাল্ডো স্রেফ মুখ বুজে অপেক্ষা করেছেন। মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি। সিউ সেলিব্রেশন এখনও অনেকবার দেখবেন ফুটবলপ্রেমীরা।
উজবেকদের বিরুদ্ধে নামার আগে সোশাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছিল একটা পরিসংখ্যান। বিশ্বকাপ এবং ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ গোল করতে পারেননি রোনাল্ডো। বড়মাপের টুর্নামেন্টে গত ১০টি ম্যাচে রোনাল্ডোর অবদান বলতে কেবল একটি অ্যাসিস্ট। শেষবার তিনি গোল করেছিলেন ২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। ঘানার বিরুদ্ধে পেনাল্টিতে গোল করেছিলেন। সেটাই শেষ। তারপর থেকে সমানে চলেছে গোল খরা। পর্তুগালও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ-ইউরো থেকে।
ফুটবলবোদ্ধারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু ক্যাপ্টেনের উপর ভরসা রেখেছিলেন রবার্তো মার্টিনেজ। মঙ্গলবার প্রথম মিনিট থেকে মাঠে নামলেন রোনাল্ডো। ৬ মিনিটের মাথায় ইতিহাস। এই গ্রহের একমাত্র মানব হিসাবে টানা ৬ বিশ্বকাপে গোল করার নজির এখন পর্তুগিজ মহাতারকার ঝুলিতে। যে রেকর্ড তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির পক্ষে ভাঙা কার্যত অসম্ভব। সমালোচকদের খাতায় ফুরিয়ে যাওয়া রোনাল্ডো ৩৯ মিনিটে ফের গোল দিলেন। আবারও রেকর্ড। বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোল। সিউ সেলিব্রেশনে মাতোয়ারা রোনাল্ডো তখন যেন গোটা বিশ্বের লড়ে যাওয়া মানুষের প্রতীক।
জোড়া গোলের পাশাপাশি গোল করাতেও এদিন দুর্দান্ত ভূমিকা নিলেন রোনাল্ডো। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া প্রকৃত ক্যাপ্টেনের মতো এগিয়ে গেলেন। ফ্রি কিক পেয়ে তিনি নিজে মারলেন না, এগিয়ে দিলেন তরুণ সতীর্থ নুনো মেন্দেসকে। উজবেক রক্ষণ রোনাল্ডোকে আটকানোর যাবতীয় প্রস্তুতি নিলেও হেরে গেল সিআর সেভেনের মাইন্ড গেমের কাছে। হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ থাকলেও সেটা ছেড়ে দিলেন। কারা যেন বলে, রোনাল্ডো স্বার্থপর?
