লিওনেল মেসি নামক বটবৃক্ষ না থাকলে আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বেশি প্রচারের আলো হয়তো তিনিই শুষে নিতে পারতেন। কিংবা শেষ মুহূর্তে মেসির আর্জেন্টিনা মহানাটকীয় কামব্যাকটা না করলে হয়তো দিনের শেষে ম্যাচের নায়ক হিসাবে লেখা থাকত মহম্মদ সালাহর নাম। অথবা, আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে যাওয়ার পরও সেই গোল যদি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পরামর্শে বাতিল না হত-তাহলে...!
আসলে মঙ্গলবারের যে ম্যাচটা মিশরের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকতে পারত-দিনের শেষে সেটা স্রেফ একটা আক্ষেপের ম্যাচ হয়ে রয়ে গেল। সৌজন্যে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত কামব্যাক। এবং কোথাও গিয়ে রেফারির বদান্যতা। এদিন ম্যাচের শুরুর কয়েক মিনিট বাদ দিলে প্রথমার্ধটা একেবারে আদর্শ ফুটবল খেলেছে মিশর। আর্জেন্টিনা যে বারবার আক্রমণে যাবে সেটা জানাই ছিল। সেই আক্রমণ সামলে প্রতিআক্রমণে গোল তুলে নেওয়া, সেই ছকে প্রথমার্ধে এক্কেবারে সফল ছিলেন সালহারা। শুধু প্রথমার্ধ কেন, ম্যাচের প্রায় ৭০ মিনিট পর্যন্ত ওই ছক কাজে লেগেছে।
এদিন ম্যাচের ১৫ মিনিটেই ইয়াসের ইব্রাহিমের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় মিশর। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে অনবদ্য কাউন্টার অ্যাটাকের শুরুটা করেন হাসিম হাসান। দুই নীল-সাদা জার্সিকে ড্রিবল করে তিনি বল বাড়ান সালাহর উদ্দেশে। প্রবল গতিতে সালাহ সেই বল বক্সের ভিতরে অনবদ্য দক্ষতায় বাড়িয়ে দেন মোস্তফা জিকোর দিকে। তিনি অসহায় এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। গ্যালারিতে যে গুটিকয়েক মিশর সমর্থক ছিলেন, তাঁরা ততক্ষণে উল্লসিত। মিশর তখন জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই আনন্দ, সেই উচ্ছ্বাস কয়েক সেকেন্ডেই বিষাদে পর্যবসিত হল। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি দাবি করলেন, গোলের আগে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করা হয়েছে। গোলের ঠিক আগে দেখা যায় মার্টিনেজের পায়ের ওপর পা তুলে দিয়েছেন মিশরের মারওয়ান আত্তিয়া। ভারের পরামর্শে গোল বাতিল করলেন রেফারি। মিশরের ২-০ গোলের লিড কমে দাঁড়াল ১-০ তে। যদিও ৯ মিনিট পরে ফের গোল করে মিশর ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষবেলায় মেসিদের আক্রমণের ঝাঁজে সেই লিড টেকেনি। হয়তো ৫৮ মিনিটের ওই গোল বাতিল না হলে অন্যরকম ফলাফল হতে পারত। মিশরের ফুটবল ইতিহাসে ওই গোল বাতিলের মুহূর্তটি কলঙ্কের মুহূর্ত বলেই পরিগণিত হবে।
মিশরের বাতিল গোল। ছবি: সংগৃহীত।
২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও শেষ কয়েক মিনিটের বাজে রক্ষণের জন্য অবিশ্বাস্য হার। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় মিশরের। সেই সঙ্গে সম্ভবত বিদায় নিলেন মহম্মদ সালাহ। একরাশ হতাশা আর চোখের জল নিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। অথচ আজ তাঁর নায়ক হওয়ার দিন ছিল। সব শিরোনামের আলো শুষে নেওয়ার দিন ছিল। যার পায়ের জাদুতে বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখে ফ্যারাওয়ের দেশ সেই ৩৪ বছরের সুপারস্টারকে কি আর বিশ্বকাপে দেখা যাবে? সেটাই এখন সমগ্র মিশরীয় ফুটবলপ্রেমীদের প্রশ্ন।
