একদিকে একটা দেশ, যারা বিশ্বকাপে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। উল্টোদিকের দেশটা আবার বিশ্বকাপে কাটাচ্ছে রূপকথার মতো দিন। ভারতীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে ফিলাডেলফিয়ায় প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে সেই দুই দেশ।
ফ্রান্স এবং প্যারাগুয়ে।
দিদিয়ের দেশঁ যে স্কোয়াডটা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন, ফুটবলগ্রহের যে কোনও কোচের কাছে তা স্বপ্নের। কিলিয়ান এমবাপে, ওসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলা, উইলিয়াম সালিবা, দেজিরে দুয়ে, দায়োত উপামেকানো, মাইক ম্যাঁনিও, জুলস কুন্দেরা ইউরোপীয় ফুটবলের বিভিন্ন ‘কুলীন’ ক্লাবের মহামূল্যবান সব সদস্য। হাতে বিকল্প এতটাই বেশি যে রায়ান চেরকির মতো ফুটবলার, যাঁকে চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন স্বয়ং পেপ গুয়ার্দিওলা, তাঁকে খেলানোর সুযোগই পাচ্ছেন না দেশঁ! নরওয়ে, সুইডেন, সেনেগালের মতো প্রতিপক্ষকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে ফ্রান্স। এবার বিশ্বকাপে এমবাপে, ডেম্বেলে এবং বারকোলাকে নিয়ে তৈরি ফরাসি ফরোয়ার্ড লাইনের সম্মিলিত গোল সংখ্যা ১২! ওলিসে আবার গোল না পেলেও করিয়েছেন পাঁচটা। এক বিশ্বকাপে পেলের সর্বোচ্চ আট অ্যাসিস্টের রেকর্ড এই ফরাসি তরুণ ভাঙতে চলেছেন বলেও রায় দিয়ে দিয়েছেন অনেকে। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বের যে কোনও দেশের লড়াই একপেশে মনে হতে বাধ্য।
কিন্তু শেষ ষোলোর এই ম্যাচে তা হচ্ছে না। আর না হওয়ার কারণ, শেষ বত্রিশে প্যারাগুয়ের পারফরম্যান্স। গ্রুপ পর্বে সেভাবে উজ্জ্বল হতে পারেনি লাতিন দেশটি। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে তৃতীয় হয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ এসেছিল তারা। সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল চারবারের বিশ্বসেরা জার্মানি। পণ্ডিতদের রায় কিংবা বাজির দর–কোথাওই পাত্তা দেওয়া হয়নি প্যারাগুয়েকে। কিন্তু টাইব্রেকারে জিতে জার্মানিকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন অরল্যান্ডো গিল, জুলিও এনসিসো, ম্যাতিয়াস গালার্জারা। ফলে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁদের আর হেলাফেলা করার উপায় নেই। দেশঁ নিজেও জানেন সে কথা। “কঠিন ম্যাচ হবে। ওরা আগ্রাসী ফুটবল খেলে। জানে কীভাবে গড় রক্ষা করতে হবে”, বলে দিয়েছেন ফ্রান্স হেডস্যর। প্যারাগুয়ে কোচ গুস্তাভো আলফারো বলেছেন, “হয়তো এই রাউন্ডেই আমাদের যাত্রা শেষ হবে। তবে আমরা লড়াই করব সর্বস্ব দিয়ে।”
অতীতে দু’বার বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে। ’৫৮-য় জাঁ ফঁতের হ্যাটট্রিকে ফরাসিরা জিতেছিল ৭-৩ গোলে। এরপর ’৯৮-এ জোসে চিলাভার্টের অতিমানবিক পারফরম্যান্সের সামনে কোনওরকমে ১-০ গোলে জিতেছিল তারা, তাও আবার অতিরিক্ত সময়ে। সেবার ফ্রান্সের অধিনায়ক ছিলেন দেশঁ। এবার কোচ হিসেবে ফের পুরনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। তবে সেই পথে প্যারাগুয়ে রক্ষণের সঙ্গে ফিলাডেলফিয়ার আবহাওয়াও বাড়তি ভাবনা ফ্রান্সের জন্য। কারণ, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। তখন তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির কাছাকাছি হওয়ার কথা। এমনিতে ফ্রান্স বেস ক্যাম্প করেছে বস্টনে। যা মার্কিন মুলুকে বেশ উষ্ণ জায়গা। কিন্তু ফিলাডেলফিয়ার গরম আরও বেশি। সেই পরিস্থিতিতে খেলাটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে এমবাপেদের জন্য। তাছাড়া রয়েছে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসও। এর আগে ইরাক বনাম ফ্রান্স ম্যাচে বজ্রপাতের জন্য ঘণ্টা দুয়েকেরও বেশি বন্ধ ছিল খেলা। প্যারাগুয়ে-ফ্রান্স ম্যাচেও তার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
