কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচ। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিনি হার্ট অ্যাটাকের পরিস্থিতি! কোনওক্রমে পুঁচকে দেশের পাহাড়প্রমাণ বাধা টপকে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসিরা (Lionel Messi)। আর সেটা সম্ভব হয়েছে লিও মেসির ক্যারিশমাতেই। ওই কঠিন ম্যাচেও অনবদ্য দক্ষতায় প্রথম গোলটা করে গিয়েছেন লিও। সেই সঙ্গে গড়ে ফেলেছেন রেকর্ডের ফুলঝুরি।
কী কী রেকর্ড?
প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে ২০ গোল। লিও মেসি পুরুষদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভেঙেছেন চলতি টুর্নামেন্টেই।
ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসাবে মেসি দুই বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করলেন। ২০২২ বিশ্বকাপেও ৭ গোল ছিল তাঁর। এ বছর ইতিমধ্যেই ৭ গোল করে ফেলেছেন। মজার কথা হচ্ছে এই রেকর্ডটি গড়তে পারেন কিলিয়ান এমবাপেও। এই বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ৬।
কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার গোলের সেই মুহূর্ত।
প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) পরপর ৮ ম্যাচে গোলের রেকর্ডও গড়লেন মেসি। সেই ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে শুরু করে প্রতিটি ন্যাচে গোল করেছেন। পরপর পাঁচটি নকআউট ম্যাচে গোলের রেকর্ডও রয়েছে তাঁর নামে। ২০২২ বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল থেকে পরপর গোল করে চলেছেন লিও। তৃতীয় ফুটবলার হিসাবে এই কীর্তি গড়ে ফেললেন তিনি।
৬০ বছরে প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপের নকআউটে ১২টি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। এর মধ্যে ৬টি গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট। কিলিয়ান এমবাপে এবং পেলের নামের পাশে ১১টি করে গোলে অবদান রাখার রেকর্ড রয়েছে। সেটা ভেঙে দিয়ে এগিয়ে গেলেন এল এম টেন।
এর বাইরে তৃতীয় বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে গোলের নজর গড়লেন তিনি। বুধবার মেসির বয়স ৩৯ বছর ৯ দিন। সদ্যই বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। মেসি দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে ১৪ গোলের মালিকও হয়েছেন।
মেসির এই রেকর্ডের ফুলঝুরি আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলল শেষ ১৬-য়। সেখানে নীল-সাদা ব্রিগেডের প্রতিপক্ষ মিশর। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এখন আশায় বুক বেঁধে যে মহম্মদ সালাহদের বিরুদ্ধেও একই রকম ক্যারিশমা দেখাবেন লিও।
