স্পেন: ২ (ওয়ারজাবাল-পেনাল্টি, পোরো)
ফ্রান্স: ০
বাস্তিল দিবস। ১৭৮৯ সালে ১৪ জুলাই বিপ্লবীদের দাপটে ভেঙে পড়েছিল ফ্রান্সের কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ। সূচনা হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের। সেই ঐতিহাসিক দিনেই বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার যুদ্ধে নেমেছিলেন কিলিয়ান এমবাপেরা। কিন্তু এদিন সেমিফাইনালে ফরাসি বিপ্লব রুখে দিল স্প্যানিশ আর্মাডা। লামিন ইয়ামালদের তরুণ স্পেন উঠে গেল ফাইনালে। এই নিয়ে টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে নকআউটে হারাল স্পেন। অন্যতম ফেভারিট হয়েও বিশ্বকাপ জেতা হল না ফরাসিদের।
ম্যাচের আগে ইয়ামাল হুমকি দিয়েছিলেন, ফ্রান্সকে দেখে নেবেন। মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, শেষ দুই টুর্নামেন্টে ফরাসি ব্রিগেডের ট্রফি স্বপ্নে জল ঢেলেছেন তাঁরাই। তাই স্পেনের বিরুদ্ধে নামার আগে চাপে থাকা উচিত ফ্রান্সেরই। সেমিফাইনালের খেলা দেখে মনে হতে বাধ্য, স্প্যানিশ তরুণ মোটেও মনগড়া ফাঁকা আওয়াজ করেননি। এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রিভুজকে একেবারে ভোঁতা করে দিল স্প্যানিশ রক্ষণ। একটাও গোল করতে পারল না ভয়ঙ্কর ত্রিমূর্তি।
ম্যাচের শুরু থেকেই পরিচিত ভঙ্গিতে খেলা শুরু করলেন দানি ওলমোরা। দ্রুত গতির ছোট পাস, সঙ্গে মজবুত রক্ষণ- ফ্রান্স যেন দু'টোর কোনওটাতেই ফাটল ধরাতে পারছিল না। কাউন্টার অ্যাটাক করলেও সেখানে ফ্রান্সের পরিচিত বিপজ্জনক শটগুলো এদিন ছিল না। মিনিটকুড়ির মাথায় খানিকটা দুর্ভাগ্যজনকভাবেই ইয়ামালকে মেরে বসলেন দিগনে। পেনাল্টি পেল স্পেন, গোল করতে ভুল হয়নি ওয়ারজাবালের। ফ্রান্সের বিপদ আরও বাড়ল সালিবা চোট পেয়ে উঠে যাওয়ায়।
এগিয়ে যাওয়ার পরেও গোল পার্থক্য বাড়াতে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে গেল স্পেন। ইয়ামাল, রড্রি, ওলমোরা বেশ কয়েকটা সুযোগ তৈরি করেছেন। প্রথমার্ধের শেষদিকটায় খানিকটা চেনা ছন্দে ধরা দিতে শুরু করেছিল ফ্রান্সও। কুন্দে-বারকোলারা চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু স্প্যানিশ রক্ষণে বারবার আটকে গেল ফরাসিরা। স্পেনের থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়েই বারবার ডুবলেন দেম্বেলেরা।
বিরতির পর দিদিয়ের দেশঁ হয়তো স্ট্র্যাটেজি বদলাবেন, ফরাসি ব্রিগেডও পরিচিত ছন্দে ফিরবে-আশা ছিল। কিন্তু কোথায় কী? ফ্যাবিয়ান রুইজরা যেখানে প্রথমার্ধ শেষ করেছিলেন, তার থেকেও আগ্রাসী ভঙ্গিতে শুরু করলেন দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। ৫৮ মিনিটে পোরোর দুরন্ত গোল। যে ফ্রান্স গোটা বিশ্বকাপে একবারও পিছিয়ে পড়েনি, দু'গোল হজম করা পর সেই ফরাসি ব্রিগেড একেবারে ছন্নছাড়া হয়ে গেল। গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, তবে জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণ সামলাতেই বেশি মন দিলেন অ্যামোরিক লাপোর্তেরা।
আলাদা করে বলতে হয় স্পেনের শেষ প্রহরীর কথা। কেবল তেকাঠির নিচে দাঁড়িয়ে শট আটকানো নয়, উনাই সিমোন বেশ কয়েকবার গোললাইন থেকে অনেকখানি বেরিয়ে এসে আটকেছেন ফ্রান্সের আক্রমণ। ম্যাচ যত গড়াল, ততই কাঁধ ঝুলে গেল গত দু'বারের ফাইনালিস্টদের। শেষ পর্যন্ত অবশ্য লড়াই চালিয়েছেন এমবাপেরা, কিন্তু চেনা ঝাঁজটাই ছিল না দলের মধ্যে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, প্রত্যেকটা ম্যাচে আগের থেকে উন্নতি করেছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের ছাত্ররা। সামনে বাকি একটা ম্যাচ। এর আগে মাত্র একবারই বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে স্পেন, সেবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। ২০১০-এর রূপকথা কি আবার ফিরবে?
