দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের আজাত একটা ছোট্ট গ্রাম। সেন্ট মার্টিন্স চার্চকে ঘিরে মেরেকেটে শ’তিনেক বাসিন্দার বসতি। দু’দশক আগে সেখানেই ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে থাকতেন ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোঁ। তারপর ফুটবলের সূত্রে গ্রাম ছাড়তে হয় তাঁকে। কিন্তু পুরনো ঠিকানাকে ভোলেননি এই ফরাসি ডিফেন্ডার। তাই বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পেয়ে সেই প্রতিবেশীদের পিৎজা খাওয়ানোর ভার নিয়েছেন তিনি।
ম্যাক্সেন্সের বাবা-মা যুক্ত ছিলেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। তাই ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে আজাতে ছোটবেলা কেটেছে তাঁর। ছ’বছর বয়সে মঁবেলিয়ার এক অ্যাকাডেমিতে ফুটবল শিখতে চলে আসেন ম্যাক্সেন্স, আজাত থেকে যা পাঁচশো কিলোমিটার দূরে। এরপর আর সেভাবে পুরনো ঠিকানায় ফেরা হয়নি তাঁর।
ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার পর করোনাকালে ম্যাক্সেন্স পারি দেন জার্মানির উলভসবার্গে। দু’বছর আগে চলে আসেন ক্রিস্টাল প্যালেসে। সেখানে ভালো খেলার সুবাদে ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে। খেলতে এসেছেন বিশ্বকাপে। ফেলে আসা গ্রামের প্রতি ভালোবাসা থেকে ম্যাক্সেন্স ঠিক করেছেন, ফ্রান্সের ম্যাচের দিনগুলিতে পুরো আজাতকে পিৎজা খাওয়াবেন তিনি। এমনকী স্থানীয় মেয়র দিদিয়ের ক্লেরোঁকে সেকথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশীরাও ঠিক করেছেন, টাউন হলে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে ফ্রান্সের ম্যাচ দেখবেন তাঁরা। -
প্রথম ম্যাচে হয়তো ম্যাক্সেসের খেলা হয়নি। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে অনায়াসে জিতেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপেরা সেনেগালকে সেভাবে পাত্তা দেয়নি। নিজেদের দেশের এই জয়ে নিঃসন্দেহে খুশি হবে আজাত। তবে ঘরের ছেলেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে পেলে হয়তো সেই আনন্দটা একটু বাড়ত।
