আর্জেন্টিনা বনাম মিশর বিশ্বকাপের মহাবিতর্কিত ম্যাচ হয়ে গিয়েছে দিন তিন-চার হল। কিন্তু তাকে ঘিরে উত্তাপ এখনও প্রশমিত হল না। বরং তা দিন-দিন বাড়ছে! কী রকম?
আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে শ’য়ে-শ’য়ে ই-মেল চলে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথিতযশা ফুটবল সাংবাদিকদের কাছে। ইংরেজিতে যেখানে লেখা থাকছে: ‘সিস্টেম কব্জা করেছি আমরা। জঘন্য সব সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে মিশর ম্যাচে। সেই ‘ডাকাতি’ করে কেউ পার পাবে না!’ যা পাঠিয়ে ন্যায়বিচার চাওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের থেকে। যার প্রেরক–ইজিপশিয়ান সাইবার ওয়ারিয়র্স!
বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মিশরের কাছে দু’গোল খেয়ে যাওয়ার পরেও শেষদিকে তেরো মিনিটে তিন গোল দিয়ে, দুর্ধর্ষ জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কিন্তু তা লেখা হয়ে থাকে, এই বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে। কারণ, দু’টো ক্ষেত্রে মিশরের সঙ্গে ‘তঞ্চকতা’ করা হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল সমর্থকদের একাংশ। আন্তর্জাতিক রেফারি-সহ ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন যে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে মহম্মদ সালাহ-দের প্রতি ‘নিরপেক্ষ’ আচরণ করেনি ‘ভিএআর’। মিশরের একটা গোল বাতিল করা হয় তা হওয়ার লম্বা সময় পরে। শেষদিকে পেনাল্টি বক্সে সালাহকে ‘ট্রিপ’ করে ফেলে দেন জুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু পেনাল্টি পায়নি মিশর। এবার আর ‘ভিএআর’-ও দেখা হয়নি।
যার পরিণাম– এ হেন ই-মেল। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের ধারণা, সংস্থার ওয়েবসাইটে ‘সাইবার অ্যাটাক’ হয়েছে। খবর যা তাতে, বিভিন্ন দেশের ফুটবল সাংবাদিকদের কাছে যে বার্তা পাঠানো হয়েছে, তাতে লেখা: ‘নব্বই মিনিট ধরে অন্যায় রেফারিং হয়েছে। মিশরের কোচকে টার্গেট করা হয়েছিল, কারণ উনি প্যালেস্তাইনের পক্ষে কথা বলেছিলেন। আর মাঠে যদি ন্যায়বিচার না পায় কেউ, তা হলে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা যেন নিজেদের নেটওয়ার্কে শান্তি প্রত্যাশা না করে।’
প্রসঙ্গত, আর্জেন্টিনার কাছে বিতর্কিত ভাবে ম্যাচ হারার পর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন মিশর কোচ হোসেম হাসান। পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন, যোগ্য দল হিসেবে জেতেনি আর্জেন্টিনা। রেফারিংয়ে ‘কারচুপি’ করে হারানো হয়েছে তঁাদের। ফিফার উচিত, আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিয়ে দেওয়া! একই কথা শোনা গিয়েছে সেই ম্যাচের গোলদাতা মোস্তাফা জিকোর মুখেও।
