এক বছর আগে ফাইনালে এসে থমকে যেতে হয়েছিল। এবার আর ভুল হয়নি। হেলসিঙ্কি কাপে ইতিহাস গড়ল ভারতের মিনার্ভা অ্যাকাডেমি এফসি। ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এইচজেকে-কে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় দল হিসাবে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতল চণ্ডীগড়ের যুব ফুটবল অ্যাকাডেমি।
গত বছরও হেলসিঙ্কি কাপে নজর কেড়েছিল মিনার্ভা। টুর্নামেন্টে ৪২টি গোল করেও ফাইনালে পিকে-৩৫-এর কাছে ১-০ গোলে হারতে হয়েছিল। সেই আক্ষেপ নিয়েই এ বছর আবার ফিনল্যান্ডে ফিরেছিল তারা। প্রত্যাবর্তনের গল্পটা লিখল ট্রফি জিতেই। প্রথম ম্যাচে এফসি ভালত্তিকে ৬-১ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করে মিনার্ভা। পরে হেলসিঙ্গিন পাল্লোসেউরাকে ৯-১ এবং ইবিকে-কে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। ইবিকে-র বিরুদ্ধে টি কিপগেন একাই করেন ৬ গোল। নকআউট পর্বেও একই দাপট। শেষ ৩২-এ হেলসিঙ্গিন পন্নিস্তাসকে ১৯-০ গোলে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ৬-০ এবং সেমিফাইনালে কাপিলান পাল্লোকে ৯-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ভারতীয় দল।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অবশ্য লড়াইটা ছিল অনেক কঠিন। তবে সেই পরীক্ষায় উতরে যায় মিনার্ভা। চ্যাম্পিয়ন দল এইচজেকে-কে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের নামে করে নেয় তারা। পুরো প্রতিযোগিতায় ৫০টিরও বেশি গোল করে ইউরোপের সমস্ত যুব দলকে পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন মিনার্ভা। টি কিপগেন, ইয়োহেনবা, রিমোসন, হাওকিপ, নংদ্রেন, পাইখোম্বা, ওয়াংশেম ও ডোনাল্ডদের মতো ফুটবলাররাই ভারতীয় দলের ইউএসপি।
গত এক বছরে ইউরোপের মাটিতে যথেষ্ট ধারাবাহিক মিনার্ভা। চলতি মরশুমে স্পেনের এমআইসি কাপে লিভারপুলের অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে ৬-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল তারা। ২০২৫ সালে নরওয়ে কাপ জিতে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে ইতিহাসও গড়ে। সেই প্রতিযোগিতায় আট ম্যাচে ১৩০ গোল করার পাশাপাশি ফাইনালে ১৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। একই বছরে ডেনমার্কের ডানা কাপও জেতে দলটি। হেলসিঙ্কি কাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভেসে থাকার সুযোগ অবশ্য নেই। ফিনল্যান্ড থেকে সরাসরি সুইডেনে যাচ্ছে মিনার্ভা। সামনে গোথিয়া কাপ। ইউরোপে যেভাবে খেলেছে, তাতে মিনার্ভাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাই যায়।
