বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) এক সপ্তাহ পার। একের পর এক অঘটন ঘটেছে মেগা টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহেই। তবে তার মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছেন 'ভারতীয়' ফুটবলাররা। গত মঙ্গলবার উরুগুয়ের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউজো। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে এসে গোল করে দলের হার বাঁচান। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথমবার কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারের পা থেকে এল গোল।
চলতি বিশ্বকাপের একাধিক স্কোয়াডেই রয়েছেন ভারতীয় বংশোভূত ফুটবলাররা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম নিউজিল্যান্ডের সরপ্রীত সিং, অস্ট্রেলিয়ার নিশান ভেলুপিল্লাই, কাতারের তাসিন মহম্মদ জামশিদ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর স্যামুয়েল মুথুস্বামী। তবে অপেক্ষাকৃত দূর থেকে হলেও ভারতের সঙ্গে লতায় পাতায় জড়িয়ে রয়েছেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো। তাঁর ঠাকুরদা রেদুলাডো আরাউজো ছিলেন গোয়ার বাসিন্দা। দক্ষিণ গোয়ার গ্রাম থেকে রেদুলাডো প্রথমে পাড়ি দেন অ্যাঙ্গোলায়। সেখান থেকে ব্রাজিল ঘুরে উরুগুয়েতে সংসার পাতেন।
২০২৩ থেকে উরুগুয়ের জাতীয় দলে খেলা শুরু করেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো। এই প্রথম তিনি নামলেন বিশ্বকাপের ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে নেমেই গোল। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিশ্চিত হারের মুখ থেকে দলকে বাঁচালেন তিনি। অন্যদিকে, বুধবার দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন আরেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্যামুয়েল মুথুস্বামীও। পর্তুগালের বিরুদ্ধে আন্ডারডগ ডিআর কঙ্গোর হয়ে নেমেছিলেন তিনি। মাঝমাঠের পাশাপাশি রক্ষণও সামলেছেন।
স্যামুয়েলের বাবার দিকে পূর্বপুরুষরা একসময় তামিলনাড়ু থেকে পরিযায়ী হয়েছিলেন। ভারত থেকে তাঁরা পাড়ি দেন ক্যারিবিয়ানভূমে। সেখান থেকে নানা দেশ ঘুরেছেন তাঁর পূর্বপুরুষ। আপাতত মায়ের সূত্রে কঙ্গোর হয়ে খেলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২৯ বছরের ডিফেন্সিভ| মিডফিল্ডার অতীতে ন্যান্ডেসের হয়ে ফ্রেঞ্চ কাপও জিতেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৫৭ ম্যাচ খেলা মুথুস্বামী বিশ্বকাপে কঙ্গোর অন্যতম ভরসা। অস্ট্রেলিয়ার নিশান ভেলুপিল্লাইও বিশ্বকাপে নেমে নজর কেড়েছেন। শ্রীলঙ্কান-তামিল বাবা এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মায়ের সন্তান নিশান অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ফুটবলে চেনা মুখ।
