বহু কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছে ইরান। কিন্তু নিজেদের প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করার পরেই আয়োজকদের রোষে পড়লেন মেহদি তারেমিরা। সূত্রের খবর, ইরানের ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফকে রীতিমতো ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে আমেরিকা থেকে। ম্যাচের পর রিকভারির ন্যূনতম সময়টুকুও পাননি ফুটবলাররা। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের রওনা দিতে হয় ১৪০ মাইল পাড়ি দেওয়ার জন্য।
শুধুমাত্র ম্যাচের সময়টুকুর জন্য মার্কিন ভিসা পেয়েছে ইরান। বাকি সময়টা অন্য দেশে থাকছে গোটা দল, সেখানেই চলছে অনুশীলন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার পর ক্যালিফোর্নিয়ার হোটেলে রাত কাটাবেন ফুটবলাররা, এমনটাই কথা ছিল। ম্যাচের আগে সেই নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের তরফে আপত্তি করা হয়নি বলেই সূত্রের খবর। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই দলকে বলা হয়, অবিলম্বে আমেরিকা ছাড়তে হবে। ফিরে যেতে হবে বেস ক্যাম্প তিজুয়ানাতে। মেক্সিকোর এই শহরেই অনুশীলন করছে ইরান। গোটা ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আমির ঘালেনোই।
বিশ্বকাপ খেলতে এসে আমির বলেছিলেন, মাঠের বাইরের রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাবেন না তাঁরা। কিন্তু ঘটনাক্রম যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ইরানের দলের সঙ্গে রাজনৈতিক তিক্ততা জড়িয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।
আমির বলেন, "রিকভারির সময়টুকু আমাদের খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটাও দেওয়া হল না। ম্যাচ শেষ হতে না হতেই বিমানে উঠে পড়তে নির্দেশ দেওয়া হল। গোটা ব্যাপারটায় আমাদের যথেষ্ট সমস্যা হয়েছে।" ইরানের কোচ মনে করছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ চলছে। আমিরের কথায়, "কেন আমাদের এভাবে বের করে দেওয়া হল সত্যিই জানি না। আমাদের যাবতীয় সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিচ্ছে বলেই আমার ধারণা।"
বিশ্বকাপ খেলতে এসে আমির বলেছিলেন, মাঠের বাইরের রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাবেন না তাঁরা। কিন্তু ঘটনাক্রম যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ইরানের দলের সঙ্গে রাজনৈতিক তিক্ততা জড়িয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। আমির স্পষ্ট জানালেন, "ঠিক ছিল যে আমরা ম্যাচের অন্তত দু'রাত আগে আসব, ম্যাচের পর রাতটা কাটিয়ে পরদিন দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ব। কিন্তু সেটা হল না। বলতেই পারি, এই বিশ্বকাপে আমাদের উপর সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন চলছে।" অধিনায়ক তারেমি গোটা ঘটনায় ফিফার সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু আদৌ কি সুরাহা হবে?
