ফুটবলারদের উপর থাকে প্রত্যাশার চাপ। আর রেফারিদের কাজকর্ম প্রতি মুহূর্তে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় থাকেন। তাঁর একটা সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ফুটবলাররা কোটি কোটি টাকা বেতন পান। কিন্তু একজন রেফারি কত টাকা পান? গত বিশ্বকাপে একজন রেফারি যত টাকা পেতেন, এবার তার থেকে অনেকটাই বেতন বেড়েছে। এর সঙ্গে রেফারিদের শরীরে জুড়েছে নতুন যন্ত্র। চোখে বসেছে নতুন এআই ক্যামেরা।
২০২২ সালে কাতারে একজন রেফারি চুক্তিভিক্তিক ৭০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ এই টাকাটা রেফারিরা পাবেনই। এর সঙ্গে ছিল ম্যাচ পিছু ৩০০০ থেকে ৫০০০ ডলার বেতন। রেফারিদের যোগ্যতা ও বিশ্বকাপের বিভিন্ন পর্বের ম্যাচের উপর এই বেতন নির্ভর করে। এছাড়া ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ও সহকারী রেফারিরাও বড় অঙ্কের বেতন পান।
এবার সেটা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে। ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে জানা গিয়েছে, এবার রেফারিরা এককালীন ১ লক্ষ মার্কিন ডলার পাবেন। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া ম্যাচ পিছু বেতনও এবার বাড়ছে। যার পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে থাকবে বোনাস। অনুমান, বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে যিনি দায়িত্বে থাকবেন, তিনি বিভিন্ন ম্যাচের দায়িত্ব মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ ডলার পাবেন। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা। সহকারী রেফারিরা পাবেন ২৫ হাজার ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৩ লক্ষ টাকা।
এই বেতন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ইংরেজ রেফারিদের। যাঁদের মধ্যে আছেন মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলর। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও এফএ কাপে খেলানোর সূত্রে তাঁরা প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার পাউন্ড পান। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে জুড়বে বিশ্বকাপ খেলানোর টাকা।
এবার আসা যাক রেফারিদের নতুন ক্যামেরা সম্পর্কে। যাঁরা ম্যাচ পরিচালনা করছেন, তাঁদের ডান চোখের উপর একটি বাড়তি যন্ত্র থাকছে। কী এর কাজ? এটি মূলত এআই পরিচালিত একটি হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা। রেফারির চোখের সঙ্গে মিলিয়ে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ঠিক করা হয়। ম্যাচ চলাকালীন রেফারি কী দেখছেন, সেটা সরাসরি দেখতে পাবেন দর্শকরা। দ্রুতগতির ম্যাচে রেফারি কী দেখে সিদ্ধান্ত নেন, সেটাও জানা যাবে। এতে বোঝা যাবে, রেফারির কাজ কতটা কঠিন। এই ক্যামেরার নাম 'রেফ ক্যাম'। প্রযুক্তি সংস্থা লেনোভো এই বিশেষ ক্যামেরাটি বানিয়েছে। রেফারিকেও ম্যাচের সময় দৌড়তে হয়। কিন্তু ক্যামেরায় যেন সেই ঝাঁকুনি না ধরে, তার ব্যবস্থাও করেছে এই সংস্থা।
এছাড়া রেফারিদের আরেক কানে আরেকটি ডিভাইস থাকে। সেটা অবশ্য নতুন নয়। এর মাইক্রোফোনের সাহায্যে রেফারি ভিডিও সহায়ক রেফারি (VAR) ও লাইন্সম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা কী মতামত দিলেন সেটাও শুনতে পান।
