ইরানের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) খেলা নিয়ে যে বিস্তর টানাপোড়েন চলছে, তা মোটেই নতুন খবর নয়। ইরানের এক ডজন ফুটবল আধিকারিকের ভিসা আটকে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে ইরানি ফুটবলাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
রবিবারই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান। এবং সে দেশে পা দেওয়া মাত্র বিষোদগার করেছেন ইরান কোচ আমির ঘালেনোই। তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, "বারো ঘণ্টার টাইম ডিফারেন্স সামলাতে অন্তত দু'সপ্তাহ আগে এখানে আসা উচিত ছিল আমাদের। পরিবেশের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট বলেও তো একটা বিষয় থাকে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার দেখার আগে প্রয়োজন মানবিক আর নৈতিক বিষয়গুলো মন দিয়ে দেখা।"
তুরস্কে লম্বা সময় ট্রেনিং করার পর মেক্সিকোর সীমান্ত-নিকটবর্তী শহর তিজুয়ানাতে গতকাল এসে পৌঁছেছে ইরান দল। আর নামার পর শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করা শুধু নয়। শিরোনাম সৃষ্টি করেছে ইরানি প্লেয়ারদের পরিহিত একখানা সোনালি পিন! সরি, পিন নয়। সেই পিনের লেখা। যা একটা সংখ্যা। ১৬৮! ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোটের যুদ্ধ নতুন কোনও খবর নয়। যে যুদ্ধে ইরানের এক প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হানায় প্রাণ যায় ১৬৮ জনের। যাদের বেশিরভাগই শিশু ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, দক্ষিণ ইরানের মিনাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হানা হয়। যার দায় সম্পূর্ণ ভাবে গিয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর। হাঙ্গেরির ইরানীয় দূতাবাস থেকে এই 'পিন'-এর ব্যাপারে পুরোটা বলে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মার্চে তুরস্কে একটা ওয়ার্ম আপ ম্যাচে নামার আগে ইরানি প্লেয়ারদের গোলাপি-বেগুনি ব্যাকপ্যাক নিয়ে নামতে দেখা যায়। উদ্দেশ্য একই ছিল- মিনাবের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হানায় নিহত শিশুদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। যে স্কুল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের ছাউনির নিকটবর্তী ছিল বলে শোনা যায়। তবে ইজরায়েল বা আমেরিকা-কেউই সেই ক্ষেপণাস্ত্র হানার দায় সরকারি ভাবে স্বীকার করেনি।
