একটা-দু'টো বছর নয়। ঠিক চার দশক পর বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে ফিরেছে ইরাক। যে প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে আয়মান হুসেনের পা। বলিভিয়ার বিরুদ্ধে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ ম্যাচে তাঁর গোলেই জয় নিশ্চিত হয়েছিল মধ্য এশিয়ার দেশটির। যার পর সে দেশে কার্যত 'জাতীয় নায়ক' হিসেবে দেখা হয় তাঁকে। আর সেই আয়মানের সঙ্গেই কার্যত 'সন্ত্রাসবাদীর' মতো আচরণ করা হল মার্কিন বিমানবন্দরে। যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
স্পেনের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে শনিবার মার্কিন মুলুকে পা রেখেছে ইরাক। দলের সঙ্গে শিকাগোর ও'হারে বিমানবন্দরে এসে নামেন আয়মান। সেখানেই সূচনা হয় তাঁর হেনস্তার। স্কোয়াডের বাকিদের ছেড়ে দিলেও আটক করা হয় আয়মানকে। দেশের জার্সিতে ৮৯ ম্যাচ খেলে ৩২ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। বলিভিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে উল্লেখিত ম্যাচে তিনিই ছিলেন ইরাকের অধিনায়ক। এমনকী স্পেনের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচেও পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামেন আয়মান।
এদিন আটক করার পর বিমানবন্দরে একটা আলাদা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব। এই পরিস্থিতিতে ইরাক জাতীয় দলের কর্তারা নিজেদের যাবতীয় যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আয়মনকে ছাড়াতে উদ্যোগী হন। কিন্তু তাঁদের প্রচেষ্টা কার্যকর হয়নি। বাধ্য হয়ে টিম হোটেলে চলে যান স্কোয়াডের বাকি সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ সাত ঘণ্টা পর মুক্তি পান আয়মান।
কিন্তু কেন এমন আচরণ করা হল আয়মানের সঙ্গে? ইরাক দল সূত্রে খবর, তাঁকে আটকের ক্ষেত্রে নামবিভ্রাটের যুক্তি দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের তরফে। বলা হয়েছে, এক পরিচিত সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে নামের মিল রয়েছে এই ফুটবলারের। তাই আটক করা হয়েছিল আয়মানকে। অথচ ৩০ বছরের এই ফুটবলার নিজেই সন্ত্রাসবাদের শিকার। তাঁর বাবা ইরাকের সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে আল কায়দার সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হন তিনি। আবার আয়মানের ভাইকে ২০১৪ সালে অপহরণ করে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা। সেই থেকে নিখোঁজ তিনিও। এমন পরিবারের সদস্যের সঙ্গে 'সন্ত্রাসবাদীর' মতো আচরণ করায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি মার্কিন প্রশাসন।
