সারা রাত ইকুয়েডর দলকে ঘুমোতে দেননি মেক্সিকোর সমর্থকরা। ইকুয়েডরের হোটেলের সামনে সারা রাত জুড়ে হর্ন বাজিয়েছেন, বাজি ফাটিয়েছেন মেক্সিকানরা। যাতে শান্তিমতো তাঁরা মাঠে না নামতে পারেন। আর মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-র ম্যাচে ইকুয়েডরকে ঘুমোতে দিলেন না জুলিয়ান কুইনোনেস। বছর দুয়েক আগে তাঁকে এই মেক্সিকোর মাটিতেই বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণ সহ্য করতে হয়েছিল। আর আজ ৪০ বছর পর মেক্সিকোর শেষ ষোলোয় ওঠার ম্যাচে নায়ক সেই কুইনোনেস। গোল করলেন, করালেন। শেষ ষোলোয় কার বিরুদ্ধে কে খেলবে, তার ছবিটা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগ ইকুয়েডরের। উইলিয়াম পাচো, হিনক্যাপিরা পিএসজি-আর্সেনালের মতো ক্লাবে খেলেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাঁরা হারিয়েছিলেন জার্মানিকে। কিন্তু ইকুয়েডরের লড়াইও রাউন্ড অফ ৩২-এই থেমে গেল। ২২ মিনিটে প্রথম গোল মেক্সিকোর কুইনোনেসের। তাঁর গোলার মতো শট বুঝতেই পারেননি ইকুয়েডরের গোলকিপার। ৩১ মিনিটে ২-০ করেন রাউল গিমেনেজ। এই গোলেরও অ্যাসিস্ট কুইনোনেসের। বছর দুয়েক আগে মেক্সিকোর গুয়াদালজারা স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ক্লাব আমেরিকার সেই ম্যাচে প্রবল বিতর্ক হয়ে। তারপর কুইনোনেস পাড়ি দেন সৌদি আরবের ক্লাব আল কাদসিয়ায়। এবার সেখানে ৩৩টি গোল করে টেক্কা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান রোনাল্ডোকেও।
অথচ মেক্সিকোর হয়ে খেলার কথাই নয় কুইনোনেসের। কারণ তাঁর জন্ম মেক্সিকোয় নয়, দক্ষিণ কলম্বিয়ায়। ছোটবেলা থেকে যুদ্ধ, হিংসা দেখে বড় হয়েছেন। গোলাবারুদের শব্দ ভুলতে আঁকড়ে ধরেছিলেন ফুটবলকে। 'ফুটবল পিস' নামের একটি প্রজেক্টের সাহায্যে সেই অঞ্চল থেকে পালাতে পেরেছিলেন। ১৫ বছর বয়সের পর আর মাতৃভূমিতে ফেরেননি। বরং পরে মেক্সিকোকেই নিজের ঘর বেছে নিয়েছেন। ২০২৩-এ মেক্সিকো দলে সুযোগ পান। আর এখন সেখানেই নায়ক। ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে মুখ চেপে কথা বলে লাল কার্ড দেখেন ইকুয়েডরের হিনক্যাপি।
শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ এখনও ঠিক হয়নি। সেটা জানা যাবে ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো ম্যাচের পর। শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে। ভিনিসিয়াস জুনিয়র বনাম আর্লিং হালান্ডের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে ফুটবল দুনিয়া। এমবাপের ফ্রান্স খেলবে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে। যারা জার্মানিকে হারিয়ে চমকে দিয়েছে। কানাডার প্রতিপক্ষ মরক্কো।
