অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে স্পেন। শেষ ষোলোর যুদ্ধে সামনে এবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। যারা প্রতিপক্ষ হিসাবে কতটা কঠিন, সেটা খুব ভালো করেই জানেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। পর্তুগাল ম্যাচের আগে ফুয়েন্তে যা বললেন...
প্রশ্ন : কেপ ভার্দে কতটা কঠিন টিম, প্রমাণ করে দিল আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। এরপর কী মনে হয়, গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে স্পেনের ড্র’কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত?
ফুয়েন্তে : আমি তথ্য হাতে নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি। যে ব্যাপারে আমার জ্ঞান নেই, তা নিয়ে কথা আমি বলি না। এবারের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শুরুর আগেই বলেছিলাম যে, এবারের টুর্নামেন্ট ঐতিহাসিক হতে চলেছে। লোকে এমন সব দেশের নাম জানবে, যাদের নাম আগে কখনও শোনেনি। তাদের মধ্যে অনেকে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। কেপ ভার্দে সে রকমই একটা দল। আমি ওদের পারফরম্যান্স দেখে এতটুকু বিস্মিত নই। আমি বলেছিলাম, কেপ ভার্দে ভালো পারফর্ম করবে। সেটা ওরা করেছে।
এভাবেই বারবার স্পেনকে হতাশ করেছিলেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা
প্রশ্ন : লামিনে ইয়ামাল একবার বলেছিলেন যে, প্রতিপক্ষ হিসেবে একজনকেই তিনি ভয় পান। পর্তুগালের লেফট ব্যাক নুনো মেন্ডেস। পাকেচক্রে সেই নুনোর বিরুদ্ধেই আজ নামতে হবে লামিনেকে। স্পেন-পর্তুগাল রাউন্ড অফ সিক্সটিন ম্যাচে। কী বলবেন?
ফুয়েন্তে : ক্লাবের হয়ে, দেশের হয়ে লামিন বার চারেক মুখোমুখি হয়েছে নুনোর। তার মধ্যে তিন বার ক্লাবের হয়ে। দু’বার হেরেছে। একবার জিতেছে। গত বছর নেশনস লিগ ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে পর্তুগালের কাছে হেরেছে স্পেন। লামিনে জানে, গ্রেটনেসের সংজ্ঞা হল বড় টিমের বিরুদ্ধে পারফর্ম করা। বড় প্লেয়ারের বিরুদ্ধে লড়ে জেতা। বড় টিম, বড় প্লেয়ারের বিরুদ্ধে লড়ে জিতলে তবে বিশ্বফুটবল তোমাকে সমাদর করবে। একটা কথা বলতে পারি, লামিনে অত্যন্ত কম্পিটিটিভ প্লেয়ার। গত বছরের নেশনস লিগ ফাইনাল থেকে ও ঠিকই শিক্ষা নেবে। নিয়ে এগিয়ে যাবে। এক বছর আগের লামিনে আর আজকের লামিনে কিন্তু এক ফুটবলার নয়। আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত। অনেক বেশি নিশ্চিত। খেলাটাকে অনেক বেটার বোঝে। যত সময় এগোবে, তত প্লেয়ার হিসেবে উন্নতি করবে ও।
লামিনে জানে, গ্রেটনেসের সংজ্ঞা হল বড় টিমের বিরুদ্ধে পারফর্ম করা। বড় প্লেয়ারের বিরুদ্ধে লড়ে জেতা। বড় টিম, বড় প্লেয়ারের বিরুদ্ধে লড়ে জিতলে তবে বিশ্বফুটবল তোমাকে সমাদর করবে। একটা কথা বলতে পারি, লামিনে অত্যন্ত কম্পিটিটিভ প্লেয়ার।
প্রশ্ন : দলে বোরহা ইগলেসিয়াসের ভূমিকা নিয়ে যদি একটু বলেন?
ফুয়েন্তে : বোরহা টিমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ফুটবলার। ও ট্রেনিংয়ে কঠোর পরিশ্রম করে। সবচেয়ে নিজেকে প্রস্তুত রাখে। যখনই টিমের প্রয়োজন, নিজের সেরাটা উজাড় করে দেয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একটা সময় আমি বোরহা মার্টিন জুবিমেন্ডিকে নামানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু তারপর ম্যাচের পরিস্থিতি পুরো বদলে যায়। তখন নিজের পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা কী জানেন, আমাদের এই টিমের সব প্লেয়ার সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকে। সব ফুটবলারকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে ইচ্ছে করে। কিন্তু দিনের শেষে এটা বিশ্বকাপ। তাই আপনাকে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
গোলের পর উচ্ছ্বাস ইয়ামালের। সঙ্গী রড্রি।
প্রশ্ন : স্পেনের কোচ হিসেবে সবচেয়ে কঠিন কাজ কী?
ফুয়েন্তে : সবচেয়ে কঠিন কাজ হল প্লেয়ার সিলেকশন। প্রত্যেক ম্যাচে কিংবা টুর্নামেন্টের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হয়। তবে তার চেয়েও কঠিন হল, ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুটবলার নির্বাচন করা। মাঝে মধ্যে আমার খুব খারাপ লাগে। কারণ এরকম অনেক ফুটবলার রয়েছে, যারা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও মাঠের বাইরে রাখতে হয়। কিন্তু কী করব? আমার এখানে কিছু করারও নেই। টিমের প্রয়োজন অনুযায়ী ফুটবলার বাছাই করতে হয়।
প্রশ্ন : অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে টিম দুর্ধর্ষ খেলেছে। অনেকেই এই টিমের সঙ্গে ২০১০-র বিশ্বকাপ জয়ী টিমের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। দুটো টিমের মিডফিল্ড কি প্রায় একইরকম?
ফুয়েন্তে : দুটো প্রজন্মই দুর্দান্ত। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড আমাদের টিমের। প্রত্যেক পজিশনে দু’জন করে বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছে।
পাশাপাশি দুই দেশ স্পেন এবং পর্তুগাল। আইবেরিয়ান ডার্বি নামে পরিচিত দুই দেশের দ্বৈরথ।
প্রশ্ন : পেদ্রি কীভাবে এত সহজে কঠিন কাজগুলো করে ফেলেন?
ফুয়েন্তে : পেদ্রি সত্যিকারের একজন জাদুকর। প্রকৃত প্রতিভা তাকেই বলে যে কঠিন কাজগুলো এমনভাবে করে যা দেখে অত্যন্ত সহজ মনে হয়। পেদ্রি ঠিক সেটাই করছে। ও অনায়াসে এমন সব পাস বাড়ায়, যা অনেকেই কল্পনা করতে পারে না।
প্রশ্ন : মিকেল ওয়ারজাবাল কি প্রকৃত স্ট্রাইকার, নাকি ফলস নাইন?
ফুয়েন্তে : ওয়ারজাবাল অসাধারণ একজন ফুটবলার। ও আক্রমণের প্রায় সব পজিশনে একইরকম দক্ষ। অনেকেই বলেন, আমার এই টিমে নাকি আমাদের প্রকৃত স্ট্রাইকার নেই। সেটা আমি একেবারেই মানি না। জেনুইন স্ট্রাইকার যাকে বলে, ওয়ারজাবাল হয়তো সেটা নয়। কিন্তু ওর ধাঁচ আলাদা। বিভিন্ন পজিশনে মানিয়ে নিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হল, গেম রিডিং ক্ষমতা দুর্ধর্ষ। আমার মনে হয় ভবিষ্যতে ও দুর্দান্ত কোচ হবে।
গোলের পর মিকেল ওয়ারসাবাল। ছবি সংগৃহীত।
প্রশ্ন : অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যে ছন্দময় ফুটবল আপনার টিম খেলেছে। তাতে অনেকেই বিরাশি বিশ্বকাপের ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনা করছেন। সেই ব্রাজিল কি আপনার অনুপ্রেরণা?
ফুয়েন্তে : আপনার ফুটবল-দর্শন খুব সরল। সেটা ফুটবলারদের কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। এখন ফুটবল অনেক বদলেছে। সেই সঙ্গে নিজের ফুটবল দর্শনও বদলাতে হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা ফুটবলারদের সঙ্গে শেয়ার করেছি। একটা কথা মনে রাখতে হবে, দিনের শেষে কিন্তু ফুটবলাররাই মাঠে নেমে খেলবে। কোচের কাজ হল শুধু ওদের জন্য সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করা।
