ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কার্যত নতি স্বীকার করেছে ফিফা। বসনিয়া এবং হারজেগোভিনার বিরুদ্ধে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বলোগান। নিয়ম অনুযায়ী, প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সাসপেন্ড থাকতেন তিনি। এক বছরের মধ্যে সেই শাস্তি কার্যকর হবে না। ট্রাম্পের ফোনে সেই শাস্তি উঠে গিয়েছে। যাতে স্বস্তি পেয়েছে আমেরিকা। ফিফার এই সিদ্ধান্তে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ড এবং বেলজিয়াম।
ফিফা জানিয়েছে, এক বছরের জন্য লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত থাকছে। ফুটবল নিয়ামক সংস্থার বিবৃতি, ‘এফডিসি-র আর্টিকেল ২৭ অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বলোগানের সাসপেনশন এক বছরের জন্য স্থগিত করা হল।’ যে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইট, ‘এক অন্যায্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ।’ কোন মন্ত্রে হঠাৎ এই ভোলবদল ফিফার? শোনা যাচ্ছে, এর নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের চাপ! হোয়াইট হাউসে মার্কিন রাষ্ট্রপতির অফিস থেকে বলোগানের শাস্তি প্রসঙ্গে ফোন গিয়েছিল ফিফার কাছে। ট্রাম্প নিজেই কথা বলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে। তারপরই বলোগানের শাস্তি তুলতে আইনের এমন একটা ধারা আমদানি করা হয়, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে সম্ভবত ওয়াকিবহালই ছিলেন না কোনও অতি বড় ফুটবল ভক্তও। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মতো মঞ্চে ব্যবহার তো পরের কথা।
টুখেল। ফাইল ছবি।
ফিফার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বলোগানের লাল কার্ড কঠোর সিদ্ধান্ত ছিল ঠিকই, কিন্তু নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। সঙ্গে জ্যারেল কুয়ানশার লাল কার্ড দেখা নিয়েও মুখ খুলেছেন টুখেল। তাঁর প্রশ্ন, এবার কি ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটবে? তিনি বলেন, "পরিষ্কার করে বলছি, ওটা লাল কার্ড ছিল না। ভিএআর হস্তক্ষেপ করেছিল। সিদ্ধান্তও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কে, কখন এবং কোন যুক্তিতে বদলে দিল? এটা আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকেছে। আমরা নিয়মের ধারাবাহিকতা চাই। আমার তো মনে হয়, ডেকলান রাইসের হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তও ঠিক ছিল না। তাহলে কি ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ডও ফিরিয়ে দেওয়া হবে? এর শুরু কোথায়, শেষই বা কোথায়? তাহলে কি আমরাও কুয়ানশার লাল কার্ডের বিরুদ্ধে আপিল করব?"
এরপরেই মোক্ষম প্রশ্ন তোলেন টুখেল। রীতিমতো ব্যঙ্গ করে বলেন, "হ্যারি কেনের কি এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করা উচিত? হতেও পারে!" অন্যদিকে, ফিফাকে 'এপ্রিল ফুল' খোঁচা বেলজিয়ামের। ফিফার সিদ্ধান্তে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা 'স্তম্ভিত'। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে তারা। বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়াও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, "আমি জানতামই না, ফিফার কাছে ৫ জুলাই মানেই ১ এপ্রিল (এপ্রিল ফুল)!" সব বিতর্কের মাঝেই সোমবার রাতে সিয়াটলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হবে আমেরিকা ও বেলজিয়াম।
