বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন থাকে সব ফুটবলারের। কিন্তু যদি কেউ সুযোগ পেয়েও খেলতে রাজি না হন? চোট-আঘাত নেই, দারুণ ফর্মেও আছেন। তবু বিশ্বকাপে খেলতে রাজি হননি ওডসন এডুওয়ার্ড। নামটা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব চেনা নয়। তাঁর গল্পটাও অজানা। যখন প্রথম জানা গেল, তিনি জাতীয় দলে ডাক পেয়েও বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) খেলতে রাজি হননি, তখন অনেকে অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু এডুওয়ার্ডের গল্প শুনলে স্যালুট করতে বাধ্য হবেন।
এডুওয়ার্ডের জন্ম ফরাসি গুয়ানায়। পরে প্যারিসে চলে আসেন। মা সাফাইকর্মী, বাবা ডাক বিভাগে কাজ করতেন। দু'জনেই জন্মসূত্রে হাইতির বাসিন্দা। প্যারিস সাঁ জাঁ থেকে এডুওয়ার্ডের কেরিয়ার শুরু। পরে সেলটিক, ক্রিস্টাল প্যালেস, লেস্টার সিটির মতো দলে খেলেছেন। এখন ফ্রান্সের ক্লাব লেন্সে খেলেন। এমনকী ফ্রান্সের জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক পর্যায়েও খেলেছেন। কিন্তু মূল দলে কখনও খেলেননি।
এডওয়ার্ডের পরিবার যেহেতু হাইতির, তাই দুই দেশের হয়ে খেলার অধিকার রয়েছে তাঁর। এই বিশ্বকাপে হাইতি থেকে ডাক আসে। ২৬ জনের দলে তাঁকে ভাবা হয়। এবার দারুণ ফর্মেও আছেন এডুওয়ার্ড। লেন্স ফরাসি লিগে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে। ক্যুপে দে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর ২১ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন তিনি। কিন্তু যখন হাইতির ডাক এল, তখন ফিরিয়ে দিলেন। কেন? কারণ তাঁর মনে হয়েছে, বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে তিনি ছিলেন না। তাই এখন বিশ্বকাপের দলে ঢুকলে, যাঁদের জন্য হাইতি ছাড়পত্র পেয়েছে, তাঁদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।
২৮ বছর বয়সি ফুটবলার বলেন, "বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের জন্য ওরা লড়াই করেছে। আমি হাইতির হয়ে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্য নই। আমি হঠাৎ করে বিশ্বকাপে গিয়ে সুবিধা নিতে পারব না।" তাহলে কি কোনও দিনই হাইতির হয়ে খেলবেন না? সেটা নয়। এডুওয়ার্ড বলেন, "আমি সেদিনই খেলব, সেদিন আমি যোগ্য হিসেবে সুযোগ আদায় করে নেব।" ৫২ বছর পর হাইতি এবার বিশ্বকাপে খেলবে। ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ডের কঠিন গ্রুপে আছে তারা।
