বিশ্বকাপ শুরুর আগেই একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে বিদ্ধ আমেরিকা। এবার মার্কিন মুলুকে নিরাপত্তার গাফিলতিতে ফাঁস হয়ে গেল লিওনেল মেসির চূড়ান্ত গোপনীয় তথ্য। মঙ্গলবার আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেই গোল করেছেন মেসি। তারপরই জানা যায়, মেসি-সহ আর্জেন্টিনার গোটা দলের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপের ৪৮ দলের তারকা ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কি আদৌ সক্ষম?
ঠিক কী ঘটেছে আর্জেন্তিনীয় স্কোয়াডের সঙ্গে? মঙ্গলবার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল লা আলবিসলেস্তে। এটাই বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে ৩-০ জেতেন মেসিরা। মেগা টুর্নামেন্টের আগে আশঙ্কা ছিল মেসির চোট নিয়ে। মে মাসে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় চোট পান তিনি। চোট গুরুতর না হলেও দুশ্চিন্তা ছিলই। তবে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭০ মিনিটে মাঠে নামেন তিনি। দু'মিনিটের মধ্যে গোলও করেন।
কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ। সূত্রের খবর, আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে টিম লিস্টে দলের প্রত্যেক সদস্যের পাসপোর্টের সমস্ত তথ্য দেওয়া ছিল। বলা হয়েছিল, এই টিম লিস্ট প্রকাশ করার আগে পাসপোর্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য মুছে ফেলা হবে। তা সত্ত্বেও ওই তথ্য সংবলিত টিম লিস্টই প্রকাশ করা হয়। অন্তত ৮৮ হাজার দর্শকের সামনে স্টেডিয়ামে জ্বলজ্বল করে ওঠে আর্জেন্তিনীয় ফুটবলারদের গোপনীয় তথ্য। গোটা বিষয়টি নিয়ে ফিফা বা আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপের আগেই একঝাঁক বিতর্ক হয়েছে আয়োজক আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোকে নিয়ে। সোমালিয়ার নাগরিক বলে রেফারিকে সটান দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জঙ্গি সন্দেহে সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করা হয়েছে ইরাকের তারকা ফুটবলারকে। কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের সঙ্গে ‘দাগি অপরাধী’দের মতো আচরণ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, সেনেগাল এবং উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের পরীক্ষা করা হয়েছে কুকুর দিয়ে। এত তল্লাশি চলছে একদিকে, অন্যদিকে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকায় বিশ্বকাপ আদৌ নিরাপত্তা তো?
