পর্তুগাল: ৫ (রোনাল্ডো ২, মেন্দেস, নেমাতোভ-আত্মঘাতী, রাফায়েল)
উজবেকিস্তান: ০
প্রথমবার বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) খেলতে নামা উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতবে পর্তুগাল, সেটা নিয়ে ফুটবলমহলের হয়তো খুব একটা সংশয় ছিল না। বরং মঙ্গলবার ফুটবলপ্রেমীরা খেলা দেখতে বসেছিলেন একটাই প্রশ্ন নিয়ে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি ফুরিয়ে গিয়েছেন? নাকি সমালোচকদের জবাব দিয়ে এখনও জ্বলে উঠতে পারেন? এদিন সকলকে জবাব দিয়ে দিল সিআর সেভেনের সিউ সেলিব্রেশন। নকআউটে ওঠার টিকিটও কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল পর্তুগাল (Portugal vs Uzbekistan match report)।
উজবেকদের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে রোনাল্ডোকে দেখে অনেকেই ভুরু কুঁচকে ছিলেন। চার মিনিটের মাথায় নুনো মেন্দেসের ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারেননি রোনাল্ডো। সেই দেখে সমালোচকরা আবার যখন বাক্য়বাণ ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে রোনাল্ডোর জ্বলে ওঠা। গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে গোল করা, সেটা তো সিআর সেভেনের অভ্যাস। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইতিহাস লিখে ফেললেন এদিন। এই গ্রহের একমাত্র মানব হিসাবে টানা ৬ বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়লেন। আপাতত যে রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নেই কারোর।
১৭ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে মেন্দেসের গোল, সেটার নেপথ্যেও রোনাল্ডোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। গোটা বিশ্ব ভাবছে সিআর সেভেন কিক নেবেন, উজবেক রক্ষণও প্রস্তুত-কিন্তু বাঁশি বাজতেই সরে গেলেন রোনাল্ডো, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেন্দেসের শট জড়িয়ে গেল তেকাঠিতে। ২৯ মিনিটে উজবেকিস্তানের গানিভের শটে গোল হলেও পরে তা বাতিল হল। তার ঠিক ৯ মিনিটের মাথায় অনবদ্য ফিনিশিংয়ে ফের গোল সিআর সেভেনের। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের নজির এখন তাঁর দখলে।
৩-০ এগিয়ে থেকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেছিল পর্তুগাল। সবচেয়ে বেশি করে চোখে পড়ছিল রোনাল্ডোর গোলের খিদে। বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিলেন। ৫৯ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে আরও বাড়ে পর্তুগালের জয়ের ব্যবধান। ৮৭ মিনিটে এল রাফায়েল লিয়াওর পা থেকেও গোল এল। গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ অনেকটা সময় খোঁড়াতে দেখা গেল সিআর সেভেনকে। তা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়লেন না। ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত গোল লক্ষ্য করে শট নিলেন। কিন্তু একের পর এক সুযোগ, গোলমুখী শটের পরেও হ্যাটট্রিক অধরা থেকে গেল।
