আরও একটা দলের হয়ে ব্যর্থ হলেন রবার্তো মার্তিনেজ। যে দেশের দায়িত্ব নেন, সেই দেশের সোনালি প্রজন্মকে 'শেষ' করেন। বেলজিয়ামে করেছেন, এবার একই কাণ্ড করলেন পর্তুগালের সঙ্গে। তারপরই পদত্যাগ। মার্তিনেজ সরে যাওয়ার পর পর্তুগালের দায়িত্ব নিচ্ছেন বর্ষীয়ান জর্জে জেসুস। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে তাঁর খুবই ভালো সম্পর্ক। কিন্তু কী লাভ? এটাই রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। ২০৩০-র বিশ্বকাপ তো আর জিততে পারবেন না। এদিকে নেটদুনিয়ায় তো জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে, এরপর কোন দেশের 'বারোটা' বাজাতে পারেন মার্তিনেজ।
স্প্যানিশ কোচের কোচিং কেরিয়ার শুরু হয় সোয়েন্সা সিটিতে। ২০১৬ সালে বেলজিয়ামের দায়িত্ব নেন। ৬ বছর কোচ ছিলেন। সেই সময় বেলজিয়ামের দল দেখলে বিপক্ষের হিংসা হবে। নামগুলো বলা যাক- কেভিন ডে'ব্রুইনে, এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, ভিনসেন্ট কোম্পানি, থিবো কুর্তোয়া। এরা তো দেশের সেরা তারকা। এছাড়া টবি অলডারওয়াইল্ড, জেমি ভারটোঙ্গেন, অ্যাক্সেল উইটসেন, থমাস মুনিয়ের, ড্রিস মার্টেন্সের নাম ফুটবলভক্তরা ঠিকই জানেন। এঁরা প্রত্যেকেই ক্লাব পর্যায়ে সাফল্যের সঙ্গে খেলেছেন। বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম দীর্ঘদিন ফিফা র্যঙ্কিংয়ে শীর্ষে ছিল। এই সময়ের মধ্যে বেলজিয়াম একটা ইউরো, চারটে নেশনস লিগ, দু'টো বিশ্বকাপ খেলেছে। ট্রফির ভাঁড়ার শূন্য। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রজন্মের হাতে শুধুই 'পেনসিল'। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাফল্য কী? রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয়। অবশেষে ২০২২-র বিশ্বকাপে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর ঘাড়ধাক্কা খান।
এরপর মার্তিনেজের 'টার্গেট' পর্তুগাল। ২০২২-র বিশ্বকাপটা রোনাল্ডোদেরও ভালো যায়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হারার পর দলের মধ্যেকার কোন্দল বাইরে চলে আসে। কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোসের মধ্যে মনোমালিন্য চলে দলের তারকাদের। তিনি সরে যেতেই দায়িত্বে আসেন মার্তিনেজ। তাঁর আমলে লুক্সেমবার্গকে ৯-০ গোলে হারানোর নজির আছে। ফের নেশনস লিগেও জিতেছে। কিন্তু ইউরো বা বিশ্বকাপে এসে চরম ব্যর্থ। অনেকে বলেন, পর্তুগালের ব্যর্থতার জন্য রোনাল্ডোও সমানভাবে দায়ী। বয়সের ভারে গোলের সামনে এখন আর ততটাও সক্রিয় নন। কিন্তু মার্তিনেজ 'সাহস' করে তাঁকে বসাতে পারেননি।
অবশ্যই প্লেয়ারদের সমালোচনা হওয়া উচিত। শেষ ১৬-য় স্পেনের বিরুদ্ধে হারের ম্যাচে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিটিনহাদের তাগিদ নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু তারও আগে মার্তিনেজের সিস্টেমই ডাঁহা ফেল করেছে। ছোট চেহারার জোয়াও নেভেস, ভিটিনহারা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে। দু'জনেই একই ধরনের ফুটবলার। প্রচুর পাস খেলেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি'তে দু'জনে একসঙ্গে খেলেন। কিন্তু ব্রুনোর সঙ্গে তাঁদের লিংক-আপ হয়নি। ব্যাকপাস, সাইড পাস, ভুল পাস। কোনও প্রেসিং নেই। আর ব্রুনোকে এত সাদামাটা শেষ কবে দেখা গিয়েছে সন্দেহ! সবাই মিলে অপেক্ষা করছিলেন কখন স্পেন ভুল করবে। এতো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। ট্যাকটিকসের ব্যর্থতা। তাঁর দায় তো মার্তিনেজকে নিতেই হবে। রোনাল্ডোরা বিশ্বকাপ জিততেনই, এরকম গ্যারান্টি কেউই দিতে পারবেন না। তবে এত ভালো ভালো ফুটবলারদের নিয়ে এরকম হতাশাজনক ফুটবল উপহার দেওয়াটাই আশ্চর্যের।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং রবার্তো মার্টিনেজ। ছবি সংগৃহীত।
আপাতত পর্তুগালে মার্তিনেজ যুগ শেষ। দায়িত্ব নিচ্ছেন ৭১ বছর বয়সি জর্জে জেসুস। তাঁর কোচিংয়ে আল নাসর এবার সৌদি প্রো লিগ জিতেছে। সৌদিতে রোনাল্ডোর ট্রফিখরা কেটেছে। ২০২৮-র ইউরো ও ২০৩০-র বিশ্বকাপে তিনিই দায়িত্বে থাকবেন। রোনাল্ডো কতদিন খেলবেন, তা বলা যাচ্ছে না। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল সিআর৭-র।
