কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পেন। এরপর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একদিনের ছুটি দিয়েছিলেন ফুটবলারদের। রোববার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ম্যাচ। সেই ম্যাচে যাতে তরতাজা হয়ে নামতে পারেন খেলোয়াড়রা, সেই কারণেই এই পরিকল্পনা করেছিলেন স্প্যানিশ কোচ। সেই ছুটির দিনেই বিপত্তিতে জড়ালেন 'লা রোজা'দের ফরোয়ার্ড বোরহা ইগলেসিয়াস।
ঠিক কী হয়েছে? ছুটির দিন। ব্যস্ত সূচির মাঝে একটু স্বস্তি। একটুকরো অবসরকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে আমেরিকার টেনেসির চ্যাটানুগা শহর ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ইগলেসিয়াস। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মারিয়া ভালেরো। কিন্তু শহর ঘুরে টিম হোটেলে ফিরতেই বিপত্তি। কারণ সিকিউরিটি চিনতেই পারলেন না তাঁকে। ক্যামেরায় ধরা পড়ল সেই দৃশ্য। যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল। সেখানে দেখা যায়, ইগলেসিয়াস তখন অ্যাম্বাসি সুইটস বাই হিলটন হোটেলের দরজার সামনে। সেই সময় নিরাপত্তারক্ষীরা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের পথ আটকে দাঁড়ান।
বোরহা ইগলেসিয়াস। ফাইল ছবি।
মহাফাঁপরে পড়েন ৩৩ বছর বয়সি ফুটবলার। টিম হোটেলে ঢুকতে না পেরে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমি স্পেনের জাতীয় দলের ফুটবলার। আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিন। ওখানে আমার যাওয়া দরকার।" এতে অবশ্য চিঁড়ে ভেজেনি। আমেরিকান সিকিউরিটি অফিসারদের প্রশ্ন, "আপনার কাছে কোনও পাস আছে? আপনি সত্যিই খেলোয়াড় তো?" সটান উত্তর ইগলেসিয়াসের, "হ্যাঁ, আমি জাতীয় দলের ফুটবলার।" তাতেও নিরাপত্তারক্ষীরা পুরোপুরি আশ্বস্ত হননি। এরপর তাঁরা তারকা ফুটবলারের নাম জানতে চান।
কাছাকাছিই উপস্থিত ছিলেন কিছু স্প্যানিশ সাংবাদিক ও সমর্থকরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা চিৎকার করে বলেন, "উনি স্পেনের জাতীয় দলের ফুটবলার। এরপরেও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রশ্ন, "আপনার নাম কী?" তখনই স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের অসহায় উত্তর, "বোরহা ইগলেসিয়াস।" অদ্ভুত ব্যাপার হল, কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছিল না স্পেনের টিম হোটেলের নিরাপত্তারক্ষীদের। সেই সময় সেল্টা ভিগোর এই ফরোয়ার্ড স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কল করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন এসে উদ্ধার করেন ফুটবলারকে।
সোমবার রাতে মহাশক্তিধর স্পেনের যাবতীয় আক্রমণ রুখে দিয়ে রাতারাতি নায়ক বনে গিয়েছেন বছর চল্লিশের গোলকিপার। ফলে এক পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের। পরের রাউন্ডে যেতে গেলে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে স্পেনকে। এমন একটা মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ইগলেসিয়াসের মতো ফুটবলারকে চিনতে পারলেন না নিরাপত্তারক্ষীরা। ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত বড়সড় ঝামেলায় পরিণত না হলেও নেটভুবনে ঝড় তুলেছে।
