দক্ষিণ কোরিয়া: ২ (হাওয়াং,হাইঅন)
চেক প্রজাতন্ত্র: ১ (ক্রেজচিচ)
বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) দ্বিতীয় ম্যাচ। সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখল গোটা বিশ্ব। পিছিয়ে পড়েও কীভাবে ফিরে আসা যায়, দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে সেটা প্রমাণ করল দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea)। ম্যাচে মোট তিনটে গোল হলেও দুপক্ষই প্রচুর সুযোগ তৈরি করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধ তুলনামূলক ম্যাড়মেড়ে হলেও দ্বিতীয়ার্ধ একেবারে জমজমাট। শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল এশীয় সূর্য দক্ষিণ কোরিয়া।
২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া চমকে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তারা উঠেছিল। কিন্তু পরবর্তী যেক'টি বিশ্বকাপ হয়েছে, তাতে কোরিয়ানদের পারফরম্যান্স সেরকম উজ্জ্বল নয়। গত বিশ্বকাপে পর্তুগালকে হারিয়ে খানিকটা আলোড়ন ফেলেছিলেন সন হিউং মিনরা। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে ৪-১ হেরে ছিটকে যায় বিশ্বকাপ থেকে। দলের অধিনায়ক সন এখন মার্কিন লিগে খেলেন। তাঁর আশা ছিল, মেক্সিকোবাসীর সমর্থন থাকবে তাঁর দলের দিকেই। সেই আশা পূর্ণ করে এদিন দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে গলা ফাটাল গোটা স্টেডিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। ৯ মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক, দু'মিনিট বাদেই কর্নার-একের পর এক গোলের সুযোগ আসছিল। মাঝমাঠ থেকেও একের পর এক আক্রমণের ঝড় তুলেছেন হাওয়াং-লিরা। বল দখলেও চেক প্রজাতন্ত্রের (Czechia) থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। প্রায় কুড়ি মিনিট কোরীয় তুফান সামলানোর পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় চেকরা। গোলের সুযোগও তৈরি করেন পাভেল সাল্করা। তবে প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই গোল করতে পারেনি।
বিরতির পর আরও আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামেন হাওয়াংরা। কিন্তু একের পর এক গোল মিসে দলের মধ্যে হতাশ বাড়ছিল। তার মধ্যেই ৫৯ মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্রের গোল। অনবদ্য থ্রো ইনে মাথা ছুঁইয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন লাদিস্লাভ ক্রেজচি। ওই গোলেই যেন নতুন করে উদ্দীপনা এল কোরীয় আক্রমণে। ৬৭ মিনিটে গোলকিপারের আঙুলের একেবারে সামনে দিয়ে বল তেকাঠিতে পাঠালেন হাওয়াং। ম্যাচের নির্নায়ক গোল এল ৮০ মিনিটে, হাইঅনের শটে। ম্যাচ শেষে কোরীয় ফুটবলারদের চোখে আনন্দাশ্রু।
