বিশ্ব ফুটবলের সেরা মঞ্চ। সেখানে নিজেকে প্রমাণ করা মানে গোটা দুনিয়ার কাছে নিজের গল্প বলার সুযোগ। যেমন, নেস্তরি ইরানকুন্ডা। তুরস্কের মতো শক্তিশালী দেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যার প্রথম গোলটি ইরানকুন্ডার। যুদ্ধবিধ্বস্ত তানজানিয়ার এক রিফিউজি ক্যাম্পে জন্ম। সেখান থেকে কোনও রকমে ঠাঁই পান অস্ট্রেলিয়ায়। বিশ্বকাপের জন্য বায়ার্ন মিউনিখের খেলার সুযোগ ছেড়েছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে এদিন মাঠে নামলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিশান ভেলুপিল্লাই।
খাতায়-কলমে এবারের বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) অন্যতম শক্তিশালী দল তুরস্ক। তাদেরকে ২-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছে 'সকারুস'রা। ২৭ মিনিটে একক দক্ষতায় বক্সের মধ্যে ঢুকে প্রথম গোলটি করেন ইরানকুন্ডা। ২০০৬ সালে তানজানিয়ার একটি রিফিউজি ক্যাম্পে তাঁর জন্ম। মা-বাবা বুরুন্ডির বাসিন্দা। সেই সময় আফ্রিকার দেশের গৃহযুদ্ধের জন্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। খুব কম বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। অ্যাডিলেড ইউনাইটেডে কেরিয়ার শুরু। পরে ডাক পান বায়ার্ন মিউনিখের যুব দলে।
বড় ক্লাবে খেলার স্বপ্ন সব ফুটবলারের থাকে। জার্মানিতে হ্যারি কেনের মতো ফুটবলারের সঙ্গ পান। কিন্তু প্রথম দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন না ইরানকুন্ডা। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দল বাছাই এগিয়ে আসছে। নিয়মিত না খেললে ডাক পাবেন না। তাই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বায়ার্ন ছেড়ে চলে আসেন সুইজারল্যান্ডের ক্লাব গ্রাসহপারে। পরে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে খেলেন। অবশেষে ২০ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে নেমেই গোল। 'সকারুস'দের হয়ে বিশ্বকাপে গোল করা তিনি সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে গোল করা তিনিই প্রথম ফুটবলার, যাঁর জন্ম সে দেশে নয়।
তুরস্ক বধের ম্যাচে অজি জার্সিতে ৬১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন ২৫ বছর বয়সি নিশান ভেলুপিল্লাই। তাঁর মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। জন্ম মেলবোর্নে। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক। আক্রমণভাগের ফুটবলারের অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৭ ম্যাচে ৩টি গোল আছে। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে খেলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিকাশ ধোরাসু।
