ব্রাজিলকে এগিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল প্রথমার্ধেই। পেনাল্টি থেকে গোল করলে ম্যাচের চিত্রটাই বদলে যেতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারায়েস। তাঁর দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। অথচ তখন মাঠেই ছিলেন ব্রাজিলের হয়ে চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ভিনির জায়গায় কেন ব্রুনোকেই পেনাল্টি নিতে পাঠানো হল?
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি জানান, আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন পেনাল্টি কে নেবেন। তিনি বলেন, “পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম পছন্দ নেইমার। দ্বিতীয় পছন্দ রাফিনহা। তৃতীয় পছন্দ ব্রুনো। যেহেতু নেইমার ও রাফিনহা মাঠে ছিল না, তাই ব্রুনোই পেনাল্টি নিয়েছে।” ব্রুনো পেনাল্টি মিস করলেও তাঁকে দোষ দিতে নারাজ ইতালিয়ান কোচ। তিনি বলেন, “ফুটবলে এমনটা হতেই পারে। ব্রুনো অনুশীলনে অনেক পেনাল্টি নিয়েছে। সফলও হয়েছে। ওর আত্মবিশ্বাস ছিল। কখনও আপনি গোল করবেন। আবার কখনও গোলরক্ষক অসাধারণ সেভ করবে।”
তবে আন্সেলোত্তি এই মন্তব্য বিতর্ক এড়াতে পারেনি। কারণ, মাঠে দলের সবচেয়ে ফর্মে থাকা এবং টুর্নামেন্টে সর্বাধিক গোল করা ভিনিসিয়াস জুনিয়র উপস্থিত ছিলেন। অনেকের মতে বিশ্বকাপে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। তাই পেনাল্টিটি তাঁরই নেওয়া উচিত ছিল। সবচেয়ে বড় সমালোচনা হয়েছে ব্রুনোর শট নিয়ে। পেনাল্টি নেওয়ার আগে থেমে যাওয়া এখন আধুনিক ফুটবলে খুবই পরিচিত কৌশল। কিন্তু সেই কৌশল ব্যবহার করেও সফল হননি ব্রুনো। শটটি দেখে মনে হয়েছে, পেনাল্টি নেওয়ার সময় স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। তবু ম্যাচ শেষে নিজের খেলোয়াড়ের পাশেই দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিল কোচ।
এই ম্যাচে নামার আগে দু’টো পরিসংখ্যান তাড়া করছিল ব্রাজিলকে। এক, নরওয়েকে কোনওদিন হারাতে না পারা। দুই, শেষ পাঁচ বিশ্বকাপেই ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের কাছে হারা। দু’টোর কোনওটিই বদলাতে পারলেন না নেইমাররা। ব্রাজিলের হতাশার দিনে স্টেডিয়ামে ফের ভাইকিং রো দেখালেন হালান্ড, মুসারা। প্রথমবার বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে নরওয়ে। যদিও সেলেকাওদের এই হারে ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে বিতর্ক এড়াতে পারল না ব্রাজিল।
