লেকটাউনের মোড় থেকে ৭০ ফুট উচ্চতার মেসির বিশাল মূর্তি অনেক আগেই সরে গিয়েছে ইকো পার্কে। বিশ্বকাপের মধ্যে মেসি আদৌ এই খবর রাখেন কি না, এর জবাব পাওয়া মুশকিল। তবে, মেসি ম্যানিয়াতে সারা পৃথিবী এতটাই ডুবে রয়েছে, সুদূর আর্জেন্টিনার ‘কোঁত্রাল’ শহরে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু উচ্চতার মেসির ভাস্কর্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। এটাই এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি ভাস্কর্য।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ঐতিহাসিক সেই কৃতিত্বের আবহেই ৩৯তম জন্মদিনে এই বিশেষ সম্মান পেলেন আর্জেন্টিনীয় অধিনায়ক। এর আগে কলকাতার লেকটাউনে মেসির ৭০ ফুট উঁচু একটি মূর্তি বসেছিল। যা সে সময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি-মূর্তি বলে প্রচারিত হয়েছিল। নতুন ৮৫ ফুট উঁচু ভাস্কর্যটি সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে।
লেকটাউন থেকে মেসি মূর্তি সরানোর অন্যতম কারণ, নিরাপত্তার অভাব। ভুলভাবে তৈরি করার জন্য প্রবল হাওয়াতে মেসি যেভাবে দুলতেন, ভয় হত, কোনদিন না ভেঙেচুরে আর্জেন্টাইন তারকা কারও মাথায় অধিষ্ঠান করেন। এই সব মাথায় রেখেই পাতাগোনিয়া অঞ্চলে বাতাসের তীব্রতা সহ্য করার জন্য তেল আর খনির পাইপের শক্ত ইস্পাত দিয়ে মেসির মূর্তি বানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে প্রায় ৭০ টন ইস্পাত দিয়ে নির্মিত এই মূর্তি আকার ও উচ্চতায় আগের সব মেসি-মূর্তিকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশাল এই ভাস্কর্যের নির্মাতা স্থানীয় শিল্পী অলদো বেরোইসা। প্রায় ১৮ মাস ধরে কাজ করে তিনি মূর্তিটি গড়ে তোলেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, চার বছর আগে কাতারে জেতা বিশ্বকাপটি দুই হাত উঁচু করে মেসি ধরে আছেন। আর মেসির বুকে খোদাই করা আছে আর্জেন্টিনার তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক, ‘তিন তারা’। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির হ্যাটট্রিকের ঠিক আগের দিনই এই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লুসাইল স্টেডিয়ামে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা মেসির সেই স্মরণীয় দৃশ্যই ধরা পড়েছে ভাস্কর্যে। মূর্তিতে দেখা যায়, এক হাতে আর্জেন্টিনার জার্সি ধরে আছেন মেসি। আর অন্য হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তোলা। গোল করার পর প্রয়াত ঠাকুমাকে স্মরণ করে প্রায়ই এমন ভঙ্গি করতে দেখা যায় তাঁকে।
কিন্তু ঠিক এই সময়েই বা মেসির মূর্তি তাঁর নিজের দেশ তেল উৎপাদনের জন্য পরিচিত কোঁত্রাল শহরে বসল কেন? বিশ্বের সব প্রান্তের সবাই মেসির এই উত্তুঙ্গ জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাইছেন। ঠিক এই সময় মেসির মূর্তি স্থাপনের আসল কারণ এটাই। পাতাগোনিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে এমন কিছু জিনিস নেই যা, পর্যটকদের আকর্ষিত করে শহরে নিয়ে আসতে পারে। আর তাই মরুভূমির বুকে বসিয়ে দেওয়া হল বিশ্বে মেসির সবচেয়ে বড় ভাস্কর্যটিকে। যাতে কাতারে কাতারে মেসি-ভক্তরা এই ভাস্কর্য দর্শনে কোঁত্রাল শহরে ছুটে আসে। মেসির ৩৯তম জন্মদিনে আর্জেন্টিনায় তাঁকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে। পাতাগোনিয়া অঞ্চলের কোঁত্রাল শহরে উন্মোচন করা হয়েছে ৮৫ ফুট উঁচু মূর্তি। দাবি, এটাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি-মূর্তি।
