shono
Advertisement
FIFA World Cup 2026

অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন, রোনাল্ডোদের বিরুদ্ধে রূপকথার নায়ক কঙ্গোর সেই উইসাই

পাঁচ বছর আগের একদিন। জুলাই মাস। ভয়াবহ অ্যাসিড হামলায় জীবনটাই বদলে গিয়েছিল তাঁর। মুখ পুড়েছিল। প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন পুড়ে যায়নি। বলা হচ্ছে কঙ্গোর স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ইয়োয়ান উইসার কথা।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 02:38 PM Jun 18, 2026Updated: 07:07 PM Jun 18, 2026

পাঁচ বছর আগের একদিন। জুলাই মাস। ভয়াবহ অ্যাসিড হামলায় জীবনটাই বদলে গিয়েছিল তাঁর। মুখ পুড়েছিল। প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন পুড়ে যায়নি। বলা হচ্ছে কঙ্গোর স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ইয়োয়ান উইসার কথা। জীবনের লড়াই জিতে তিনি আবার ফুটবলে ফিরেছেন। কেবল ফেরাই নয়, গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালের বিরুদ্ধে গোল করে রূপকথার জন্ম দিয়েছেন। তাঁর গোল ইবোলা মহামারির শহরে এনেছে খুশির জোয়ার।

Advertisement

পর্তুগাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে। কর্নার থেকে ছুটে আসা বলে দুরন্ত হেড চিনে নেয় তেকাঠি। এই গোলে কেবল সমতাই ফেরেনি। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ইতিহাসে কঙ্গোর হয়ে প্রথম গোল করার গৌরবও এনে দিয়েছে তাঁকে। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে মধ্য আফ্রিকার দেশটি। প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে পর্তুগালের মতো দলকে আটকে দেওয়ার পর আনন্দের ঢল কঙ্গোর রাজপথে, আনাচকানাচে। উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা দেশ। ইবোলা মহামারিতে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া। সেখানকার মানুষ দুঃখ-দুর্দশা ভুলে আনন্দে শামিল হন। কিন্তু এই সব কিছুর নেপথ্যে উইসা। পাঁচ বছর আগে ঠিক কী ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে?

২০২১ সালের ১ জুলাই। তখন তিনি ফরাসি ক্লাব লরিয়ঁর ফুটবলার। সেদিন এক নারী তাঁর বাড়িতে ঢুকে মুখে অ্যাসিড ছোড়ে। এমনকী তাঁর মেয়েকেও অপহরণের চেষ্টা চালায়। গুরুতর আহত ফুটবলারকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যেখানে তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার করতে হয়। পরদিন ওই নারী আরও এক মহিলার উপর অ্যাসিড হামলা চালায়। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত নারী দাবি করেছিল, তার মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি নিজেও গর্ভবতী। গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আরও এক শিশুকন্যাকেও অপহরণ করে। ২০২১ সালের ৩ জুলাই পুলিশ তকে গ্রেফতার করে। পুলিশি জেরায় কিছু অভিযোগ স্বীকার করলেও অস্বীকার করে বহু কিছু। এমনকী জানিয়েছিল, কিশোরী বয়স থেকেই কেবলই মনের কথা শুনেছে সে।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হত্যাচেষ্টা ও অপহরণের দায়ে ওই নারীকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটেছিল, যখন উইসার লরিয়ঁ থেকে ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন ভয়ংকর হামলার শিকার হওয়ার পরও তিনি হার মানেননি। বর্তমানে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফুটবলার উইসা ফ্রান্সের এক আদালতে বলেছিলেন, “দরজা খুলতেই আমার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয়। আমি চিৎকার করছিলাম। শ্বাস নিতে পারছিলাম না। হাসপাতালে ডাক্তাররা জানান, আমার চোখ পুড়ে গিয়েছে। দু’চোখে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। সারা জীবন আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে।” এই ঘটনার পর দীর্ঘদিন তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে সন্তানরা নিরাপদ আছে, এই ভাবনাই তাঁকে শক্তি জুগিয়েছিল।

উইসা জানান, হামলার কারণে তাঁর ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেওয়াও কয়েক মাস পিছিয়ে যায়। “হামলার পর আমি একজন ফুটবলারের চেয়ে একজন বাবার মতো ভাবছিলাম। নিজেকে বলেছিলাম, আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্তত আমার সন্তানরা ভালো আছে।” তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তিনি অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান। অচেনা মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন না। তবুও কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে তিনি ফুটবলে ফিরে আসেন। তাঁর তৎকালীন কোচ ক্রিস্টোফ পেলিসিয়ে বলেন, “খুব খারাপ অবস্থার মধ্যেও উইসা কখনও হার মানেনি। ওর লড়াই করার মানসিকতা সত্যিই অসাধারণ।” তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ পিয়ের-ইভ হামেলও জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি কখনও অভিযোগ করেননি। কখনও হতাশায় ভেঙে পড়েননি। বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথই বেছে নিয়েছিলেন। প্লাস্টিক সার্জারির পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। সেই অদম্য মানসিক শক্তির ফল আজ সবার সামনে। মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা সেই ফুটবলারই এখন কঙ্গোর অন্যতম বড় ভরসা। বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের অন্যতম নায়ক।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement