বয়স মাত্র ৩৪। এই বয়সেই জুতো জোড়া তুলে রাখলেন ব্রাজিল ফুটবলার অস্কার। তাঁর পুরো নাম অস্কার দোস সান্তোস এম্বোয়াবা জুনিয়র। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল হার্টের সমস্যা। সেই কারণেই এত কম বয়সে ফুটবল কেরিয়ারে ইতি টানলেন এই তারকা মিডফিল্ডার।
২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম জার্মানি ম্যাচ মনে আছে? যদি প্রশ্ন করা হয়, ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জার দিন কোনটা? প্রশ্নের উত্তরটা খুব সহজ। বেলো হোরাইজন্তের সেই অভিশপ্ত রাত। জার্মানদের গতি আর ক্ষিপ্রতার সামনে চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল সাম্বা ফুটবলের আভিজাত্য। দাভিদ সিলভা, কুটিনহোদের সাত-সাতটি গোল হজম করার সেদিনের সাক্ষী ছিলেন হাজার হাজার ব্রাজিলীয় সমর্থক। লজ্জার সেই হারের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন ২৩ বছরের এক তরুণ, অস্কার।
একটা সময় ভবিষ্যতের তারকা ভাবা হত অস্কারকে। তাঁর সাম্বার ছন্দ চেলসির মাঝমাঠেও জাদু ছড়িয়েছিল। তবে মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ইউরোপ ছেড়েছিলেন। সেই তিনি এবার পাকাপাকিভাবে অবসর নিলেন। বর্তমান ক্লাব সাও পাওলোর সোশাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, 'আমি সাও পাওলোর হয়ে আরও অবদান রাখতে চেয়েছিলাম। আরও বেশি খেলতে চেয়েছিলাম। আমার মধ্যে এখনও খেলার মতো যোগ্যতা ও বয়স দু'টোই ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হল। আমি অবসর নিচ্ছি। এখন থেকে আমি শুধুই একজন সমর্থক হিসাবে গ্যালারিতে থাকব।'
ঠিক কী হয়েছিল? ঘটনার সূত্রপাত গত নভেম্বরে। সাও পাওলোর ট্রেনিং সেন্টারে ফিজিক্যাল টেস্ট দিতে গিয়েছিলেন অস্কার। সেই সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, অস্কার 'ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ' নামক সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগের ফলে রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন হঠাৎ কমে যাওয়ায় মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। হার্টের এই সমস্যার কারণেই অস্কারের ফুটবল কেরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী হল না।
গত বছরের জানুয়ারিতে তিন বছরের চুক্তিতে সাও পাওলোতে ফিরেছিলেন তিনি। অর্থাৎ তাঁর চুক্তির আরও দু'বছর বাকি ছিল। তবে ঝুঁকি নিতে চাননি। চুক্তি বাতিল করে বুট জোড়া তুলে রাখলেন তিনি। সাও পাওলোর হয়ে ২০০৯ সালে পেশাদার ফুটবলে পা রাখেন অস্কার। ২০১২ সালে চেলসিতে। সেখানে কাটিয়েছেন পাঁচ বছর। জিতেছেন ইউরোপা লিগ, প্রিমিয়ার লিগ এবং লিগ কাপ। সাংহাই পোর্টে যোগ দেওয়ার আগে তিনি চেলসির হয়ে ২০৩ ম্যাচে ৩৮টি গোল করেছিলেন। চিনের ক্লাবেও তাঁর সাফল্য কম নয়। সেখানে তিনি তিনটি চাইনিজ সুপার লিগ শিরোপা জিতেছিলেন। ব্রাজিলের হয়ে ৪৮টি ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন অস্কার।
