তিন বছর আগেও এশিয়ার সেরা টুর্নামেন্টে খেলত ভারতের ক্লাবগুলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আইএসএল নিয়ে যে ডামাডোল চলেছে, তার প্রভাব পড়ল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের ক্ষেত্রে। ২০২৭-২৮ মরশুমে এএফসি'র তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ের টুর্নামেন্ট, এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের স্লট পেল ভারতীয় ক্লাবগুলো। তাও প্লেঅফ খেলে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আগামী মরশুমে, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ মরশুমে অবশ্য এসিএল ২ খেলতে পারবে ভারতের ক্লাবগুলো।
এবছর আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু লিগ হয়েছে সংক্ষিপ্ত আকারে। মাত্র ১৩টি করে ম্যাচ খেলেছে দলগুলো। অন্যদিকে এফসি গোয়া সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন। দু'টো দলই আগামী মরশুমে এশিয়া পর্যায়ে খেলবে। তবে সেটা এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-তে প্লেঅফে। সেখানে যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে তবে মূল পর্বে খেলবে। আগে চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলত। এবার ন্যূনতম ২৪টি ম্যাচ বা আট মাসের হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলা হয়নি।
তবে পরের মরশুমের অবস্থা আরও খারাপ। তৃতীয় পর্যায় অর্থাৎ এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে একটিমাত্র প্লেঅফ স্লট দেওয়া হয়েছে। সেটা শুধুমাত্র আইএসএল জয়ীদের জন্য। এই অধঃপতন নিয়ে পিটিআইকে এক ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্তা বলেছেন, 'আমরা এসিএলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে নেমেছি। এবার তৃতীয় পর্যায়ে খেলতে হবে। যেখানে পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটানের মতো দেশের ক্লাবগুলো খেলে। তাও সেটা সরাসরি গ্রুপ স্টেজ নয়। প্লেঅফ খেলতে হবে। আমাদের ফুটবল পরিকাঠামো ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।"
কেন এই অবস্থা? আইএসএল নিয়ে ডামাডোল চলছে। লিগের ভবিষ্যৎ কী, তা এখনও ঠিক করে উঠতে ব্যর্থ ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। ক্লাব পর্যায়ে পশ্চিম এশিয়ায় ভারত নেমে গিয়েছে ১৫তম স্থানে। সার্বিকভাবে এশিয়ায় অবস্থান ২৬তম স্থানে। তার মধ্যে গতবার এফসি গোয়া এসিএল টু-তে গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ হেরেছে। নিরাপত্তা জনিত কারণে মোহনবাগান টানা দু'বছরে ইরানে যায়নি। ভারতের অধঃপতনে এই সব কিছুর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
