জিতলেই কাটবে ২২ বছরের খরা। ভারতসেরার শিরোপা আসবে ক্লাবের মুকুটে। কিন্তু সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও লাল-হলুদকে বিপাকে ফেলল গোল মিসের পুরনো রোগ। কখনও মিগুয়েল, কখনও রশিদ-তেকাঠির সামনে এসে দিশা হারিয়ে ফেললেন সকলেই। ফলে লিগজয়ের পথ আরও কঠিন হল ইস্টবেঙ্গলের। অন্যদিকে মোহনবাগানের সামনে ট্রফি ধরে রাখার হাতছানি। কিন্তু প্রথমার্ধে গোল করার ভূরি ভূরি সুযোগ নষ্ট করলেন জেমি ম্যাকলারেনরা।
ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে মুহুর্মুহু আক্রমণ শানিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েল একটি অসাধারণ ব্যাকভলি করেন। কিন্তু জোরাল না হওয়ায় তা ইন্টার কাশীর গোলকিপার বাঁচিয়ে দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফের গোলের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। লাল-হলুদের জোরাল আক্রমণের মধ্যেও ইন্টার কাশীর রক্ষণের ভূমিকা প্রশংসনীয়। ঠাণ্ডা মাথায় অভিজিৎ মণ্ডলের ছাত্ররা একটা সুযোগের অপেক্ষা করছিলেন। সেটাই এল ম্যাচের ১৫ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাকে উড়ে আসা পাসে অসাধারণ ভলি মারলেন আলফ্রেড। বিরতির ঠিক আগেই আবারও গোল করার সুযোগ ছিল ইন্টার কাশীর কাছে। গোল পোস্টের সামনে একেবারে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে লাল-হলুদ রক্ষণ। তবে গোলকিপার প্রভসুখন গিলের দক্ষতায় কোনওক্রমে বাঁচে ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধে ১-০ পিছিয়ে তারা।
মোহনবাগানের সামনেও খেতাব জয়ের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। যেহেতু ইস্টবেঙ্গল পিছিয়ে রয়েছে, তাই ম্যাচ জিতলেই আবার ভারতসেরা হতে পারবে সবুজ-মেরুন শিবির। কিন্তু জেসন কামিংসরা যেন জিততেই চান না। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে মোহনবাগান। কিন্তু স্ট্রাইকাররা সেই সুযোগ হারাচ্ছেন হেলায়। প্রথমার্ধে কামিংস একাই অন্তত তিনটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। তবে মোহনবাগানের প্লাস পয়েন্ট, তারা এখনও গোল খায়নি। বিরতির আগে ০-০ ফল দিল্লি এসসি বনাম মোহনবাগান ম্যাচের। দুই প্রধানের ফলাফল যদি ম্যাচের শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে ফের আইএসএল (ISL 2026) জিতবে মোহনবাগান।
ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ছাড়াও আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে পাঞ্জাব এফসি এবং জামশেদপুর এফসির সামনে। বিরতির আগে পর্যন্ত দুই দলের যা ফলাফল, সেটাই যদি ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, এবং জামশেদপুর যদি জিতে যায়, তাহলে তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। ম্যাচ জিতলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে পাঞ্জাব। তবে প্রথমার্ধে দুই দলই আপাতত গোলশূন্য ড্র করেছে।
