মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুন মামলায় উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে নবীন কুমার সিং নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থা আদালতে দাবি করেছে, রাজ্য পুলিশের সিট রাজ সিং নামে যাকে গ্রেপ্তার করেছিল, তিনি এই মামলার প্রকৃত অভিযুক্ত নন। তদন্তকারীদের দাবি, নামের মিলের কারণেই ভুলবশত ওই ব্যক্তিকে ধরা হয়েছিল। পরে মুজফ্ফরনগর থেকে ‘আসল’ রাজকুমার সিং ওরফে রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। এনিয়ে চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পঞ্চম অভিযুক্ত।
বালিয়া জেলার যোগসূত্র সামনে আসতেই সিবিআই ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে ফেফনা থানার থামহনপুরা গ্রামের বাসিন্দা নবীন কুমার সিংকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, দু’টি রিভলভার, ৪৫ রাউন্ড কার্তুজ, তিনটি খালি খোল ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।
গত ৬ মে অর্থাৎ ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক দু'দিন পর মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। জখম হন তাঁর গাড়ির চালকও। প্রথমে তদন্তে নামে রাজ্য পুলিশের সিট। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে তল্লাশি চালিয়ে ১১ মে ময়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য ও রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পরে রাজকুমার সিং ওরফে রাজ সিং এবং বিনয় রাই ওরফে পমপমকে গ্রেপ্তার করে।তদন্তে সিবিআই জানতে পারে, সিট রাজ সিং নামে যাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সে খুনের দিন ঘটনাস্থলে ছিলই না। আদালতে কেন্দ্রীয় সংস্থা জানিয়েছে, ওইদিন উত্তরপ্রদেশে থাকার পক্ষে তার কাছে পোক্ত অ্যালিবাই (ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ) রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও এসটিএফের রিপোর্টও সিবিআইয়ের হাতে আসে। এরপরই বারাসত আদালতে রাজের মুক্তির আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
এদিকে, বালিয়া জেলার যোগসূত্র সামনে আসতেই সিবিআই ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে ফেফনা থানার থামহনপুরা গ্রামের বাসিন্দা নবীন কুমার সিংকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, দু’টি রিভলভার, ৪৫ রাউন্ড কার্তুজ, তিনটি খালি খোল ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া একটি পিস্তল বিদেশে তৈরি বলেই তদন্তকারীদের দাবি। চন্দ্রনাথ রথ খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে তার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিবিআই।
