শনিবার এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচ ড্র করে চাপ বেড়েছে মোহনবাগানের। বিশেষ করে যখন সমসংখ্যক ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেয়ে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল রয়েছে লিগ টেবিলের শীর্ষে। মোহনবাগান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেও দল চাপে রয়েছে মানছেন না মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা। বরং লিগের নিয়ন্ত্রণ এখনও তাঁদের হাতেই রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। আপাতত চাপ না নিয়ে শুভাশিস বোসদের নির্দেশ দিয়েছেন সবকিছু ভুলে পরের ম্যাচের দিকে মনোনিবেশ করতে। এদিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগেই ইস্তফা দিলেন ইন্টার কাশীর কোচ আন্তোনিও হাবাস।
পরের ম্যাচে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশী। আগামী দশদিন মোহনবাগানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সবুজ-মেরুন কোচ। মঙ্গলবার হাবাসের দলের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে খেলতে হবে জেমি ম্যাকলারেনদের। শনিবার ম্যাচ ড্র করার পর লোবেরা বলেন, "আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ঘরের মাঠে ইন্টার কাশী ম্যাচ জেতা। আপাতত সেদিকেই মনোনিবেশ করতে হবে। সবকিছু এখনও পর্যন্ত আমাদের হাতেই রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো উন্নতি করতে হবে। তবে পুরো বিষয়টি আমাদের উপরই নির্ভর করছে। এই পরিস্থিতি গুলো থেকে আমাদের শিখতে হবে। আগামী দশদিনের মধ্যে ট্রফি জিততে পারি।"
শনিবারের ম্যাচের ফল কাঙ্খিত না হলেও এমন পরিস্থিতি থেকে এতটুকু হতাশ নন তিনি। যদিও তিনি মনে করছেন দ্বিতীয়ার্ধে আরও গোল করতে পারতেন ম্যাকলারেনরা। আগামী ম্যাচগুলোতে এই ভুল শুধরে মাঠে নামতে হবে বলে জানান মোহনবাগান কোচ। এই মুহূর্তে হাবাসের ইন্টার কাশী খুব একটা ভালো জায়গায় নেই। দশ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের নবম স্থানে রয়েছে। সেখানে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোহনবাগানের সংগ্রহ ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট।
অন্যদিকে রবিবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ইন্টার কাশীর কোচ। নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে হাবাস লিখেছেন, "প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা যায়। দুর্ভাগ্যবশত সেই প্রতিশ্রুতি যখন পালন না হয়, তখন বিশ্বাসটাই হারিয়ে যায়। আমরা একসঙ্গে আই লিগ জয়, আইএসএলে উঠে এসেছিলাম। একইসঙ্গে ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষস্তরে থাকাটাও নিশ্চিত করেছি। আমার যাত্রা শেষ। আমি আন্তরিকভাবে দলের প্রতিটি ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফ এবং কর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাইকে আগামী দিনের শুভচ্ছা।” উল্লেখ্য, কিছুদিন ধরেই ইন্টার কাশীতে আর্থিক সমস্যা চলছিল। তা নিয়ে মুখ খোলেন হাবাস। তারপর কিছুদিন চুপ থাকার পর এদিন পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। ইন্টার কাশীর পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও সরকারিভাবে হাবাসের সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়নি।
