'মরার আগে মরব না, ভাই, মরব না'। এমন অবস্থা এখন মোহনবাগান (Mohun Bagan) শিবিরে। একদিকে চ্যাম্পিয়নশিপের দোরগোড়ায় ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, মোহনবাগানের সামনে খাতায়কলমে ট্রফি জেতার আশা থাকলেও সেই অঙ্ক বড় কঠিন। যদিও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
সাংবাদিক সম্মেলনে সবুজ-মেরুন হেডকোচ সের্জিও লোবেরা জানালেন, কঠিন সমীকরণ থাকলেও এখনও শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে তাঁদের সামনে। আর সেই সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরেই লড়াই চালিয়ে যেতে চান তাঁরা। তবে ম্যাচে চোট-আঘাত সমস্যা রয়েছে। ডার্বিতে চোট পেয়েছেন আপুইয়া। ডার্বি শেষে পেশিতে টান লাগার কারণে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন জেসন কামিংস। সতীর্থদের কাঁধে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। পরে স্ট্রেচারের সহায়তায় হাঁটতে দেখা যায় তাঁকে।
মোহনবাগান কোচের কথায়, “দিল্লির বিরুদ্ধে আপুইয়া খেলতে পারবে না। ও পুরো ফিট নয়। জেসনকে নিয়েও নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রেনিং সেশনে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” লিগ জয়ের সমীকরণ কঠিন হলেও দলকে ইতিবাচক থাকার বার্তা দিয়েছেন লোবেরা। তাঁর কথায়, “আমরা যে পরিস্থিতিতে থাকতে চেয়েছিলাম, সেখানে নেই। কিন্তু এখনও সুযোগ আছে। আর সুযোগ থাকলে বিশ্বাস রাখতেই হবে। লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরাও চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, সেই প্রত্যয় রাখতে হবে।”
মোহনবাগান কোচের কথায়, “দিল্লির বিরুদ্ধে আপুইয়া খেলতে পারবে না। ও পুরো ফিট নয়। জেসনকে নিয়েও নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রেনিং সেশনে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বড় ব্যবধানে জয়ের চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি সতর্ক সুরে বলেন, “প্রথম লক্ষ্য ম্যাচ জেতা। তবে গোলের ব্যবধানও একটা ফ্যাক্টর। সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব।” প্রতিপক্ষ দিল্লিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ কোচ। তিনি বলেন, “ওরা খুব ভালো ফুটবল খেলছে। যদি আমরা ১০০ শতাংশ না দিই, তাহলে জেতা সম্ভব নয়।”
দলের গোল করার সমস্যার প্রসঙ্গে বাগান কোচের মন্তব্য, “আমরা সুযোগ তৈরি করছি, কিন্তু গোল করতে পারছি না। শুধু আক্রমণ নয়, ব্যালান্সও গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকি নিলে প্রতিপক্ষও সুযোগ পায়।” পাশাপাশি সেট-পিসের গুরুত্বও তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেট-পিস ম্যাচ জেতাতে পারে, ট্রফি জেতাতে পারে।” সমর্থকদের উদ্দেশে কোচের বার্তা, “আমরা সমর্থকদের কাছ থেকে কিছু চাইতে পারি না। আমাদেরই তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। তারা সবসময় পাশে থেকেছে। সমর্থন করে গিয়েছে। আশা করি সমর্থকদের জন্য নিজেদের সেরাটা দিয়ে ম্যাচ জিতব।”
বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে দিমিত্রি বলেন, “সবকিছুই সম্ভব। আমরা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই নামব। নিজেদের সেরাটা দেব।”
অন্যদিকে দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার দিমিত্রি পেত্রোতোসও আত্মবিশ্বাসী। বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছুই সম্ভব। আমরা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই নামব। নিজেদের সেরাটা দেব। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে। আর মাত্র একটা ম্যাচ বাকি। মাঠে এসে আমাদের সমর্থন করুন। আমরা লড়ব, সবকিছু উজাড় করে দেব।” নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নে তিনি অতীত নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বর্তমানেই ফোকাস রাখলেন। তাঁর কথায়, “অতীত নিয়ে ভাবছি না। আমরা জানি কী করতে হবে। মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দেব।”
তবে কি চলতি আইএসএল শেষেই মোহনবাগান ছাড়ছেন তিনি? এই জল্পনার আবহেই ২১ মে স্পোর্টিং দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সাংবাদিক বৈঠকে কোচ সের্জিও লোবেরার পাশে বসে তিনি স্পষ্ট করে দেন নিজের অবস্থান।
১৯ মে নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি রহস্যময় পোস্ট করেছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। মোহনবাগানের সবুজ-মেরুন জার্সিতে নিজের একাধিক মুহূর্তের কোলাজ শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, 'ওয়ান লাস্ট ডান্স'। আর সেই একটি বাক্যই যেন আগুনে ঘি ঢালে। সমর্থকদের মনে প্রশ্ন, তবে কি চলতি আইএসএল শেষেই মোহনবাগান ছাড়ছেন তিনি? এই জল্পনার আবহেই ২১ মে স্পোর্টিং দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সাংবাদিক বৈঠকে কোচ সের্জিও লোবেরার পাশে বসে তিনি স্পষ্ট করে দেন নিজের অবস্থান। দিমির কথায়, “আমার লক্ষ্য সবসময় একই, মাঠে নামা এবং প্রতিবার নিজের সেরাটা দেওয়া। আমি খুব ভালোভাবেই জানি সবুজ-মেরুন জার্সি পরার মানে কী। আবারও মাঠে নামব, সতীর্থদের সঙ্গে খেলব এবং ক্লাবের জন্য লড়ব। শেষ ম্যাচটা উপভোগ করতে চাই, তারপর দেখা যাক কী হয়।”
