দেশের ফুটবল সংস্থার সংবিধান এবং কমার্শিয়াল পার্টনার হিসেবে জিনিয়াস স্পোর্টস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২৩ মে স্পেশাল জেনারেল বডির মিটিং ডেকেছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। ঠিক হয়েছে তার ঠিক একদিন আগেই ২২ মে দিল্লিতে আইএসএলের ক্লাবগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ফেডারেশন কর্তারা।
যেহেতু ক্লাবগুলি আগেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে কমার্শিয়াল পার্টনার হিসেবে চুক্তি হলে ক্লাবগুলি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই ফেডারেশন কর্তারা চাইছেন, স্পেশাল জেনারেল মিটিংয়ের ঠিক আগের দিন ক্লাবগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসতে। কিন্তু মিটিংয়ের সাত দিন আগেই ইস্টবেঙ্গলকে বাদ দিয়ে আইএসএলের বাকি ক্লাবগুলি কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করা নিয়ে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়ে পাঠাল, যা নিয়ে কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করতে গিয়ে ফের জলঘোলা হতে পারে।
মিটিংয়ের সাত দিন আগেই ইস্টবেঙ্গলকে বাদ দিয়ে আইএসএলের বাকি ক্লাবগুলি কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করা নিয়ে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়ে পাঠাল, যা নিয়ে কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করতে গিয়ে ফের জলঘোলা হতে পারে।
ক্লাবগুলি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, চলতি মরশুমেই ক্লাবগুলি দেখিয়ে দিয়েছে যে, কম খরচে নিজেরাই সম্মিলিতভাবে লিগ পরিচালনা করতে সম্ভব। এই মরশুমের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ক্লাবগুলি এমন বহু ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে, যেখানে অর্থিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় হ্রাস সম্ভব, বিশেষত লিগ পরিচালনা, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিকস, প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। আইএসএলের ক্লাবগুলি মনে করছে, ভারতে দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন অভিজ্ঞতা নেই এমন কোনও বিদেশি বাণিজ্যিক সংস্থার পক্ষে এই ধরনের লিগ কার্যকরভাবে করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। এই মরশুমের পর ক্লাবগুলি এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, মনে করছে, তারা সম্মিলিতভাবে একটি সংক্ষিপ্ত, পেশাদার এবং আর্থিকভাবে টেকসই লিগ কাঠামো পরিচালনা করতে সক্ষম।
এই মরশুমের পর ক্লাবগুলি এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, মনে করছে, তারা সম্মিলিতভাবে একটি সংক্ষিপ্ত, পেশাদার এবং আর্থিকভাবে টেকসই লিগ কাঠামো পরিচালনা করতে সক্ষম।
ক্লাবগুলির বিশ্বাস, ফেডারেশনকে সঙ্গে নিয়ে তারাই ভারতীয় বাজারের সঙ্গে সবচেয়ে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারে এবং লিগের পূর্ণ বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। তাদের দীর্ঘদিনের স্থানীয় উপস্থিতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক, সমর্থকভিত্তি এবং বাজার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে ক্লাবগুলি কেন্দ্রীয় মিডিয়া স্বত্ব, কেন্দ্রীয় স্পনসরশিপ, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, লাইসেন্সিং ও ফ্যান এনগেজমেন্টের সুযোগ ক্লাবগুলির মতে, স্থানীয়করণের সুবিধা এবং স্থানীয় ইনভেন্টরি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সুযোগগুলিকে যুক্ত করার ক্ষমতা এই স্বত্বগুলির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে এবং লিগের সামগ্রিক রাজস্ব বৃদ্ধি করতে পারে।
এর পাশাপাশি ক্লাবগুলি আইএসএল চালানোর জন্য একটি কাঠামোর প্রস্তাবও। ক্লাবগুলি সম্মিলিতভাবে একটি উপযুক্ত লিগ পরিচালন সংস্থার মাধ্যমে লিগ পরিচালনা করবে। ফেডারেশন লিগ কাঠামোয় ১০ শতাংশ মালিকানা ধরে রাখবে। ফেডারেশন পূর্ববর্তী পরিচালন কাঠামোর মতোই ইন্টিগ্রিটি তদারকি, নিয়ন্ত্রক সহায়তা এবং রেফারি ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রদান করবে।
ফেডারেশন লিগ কাঠামোয় ১০ শতাংশ মালিকানা ধরে রাখবে। ফেডারেশন পূর্ববর্তী পরিচালন কাঠামোর মতোই ইন্টিগ্রিটি তদারকি, নিয়ন্ত্রক সহায়তা এবং রেফারি ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রদান করবে।
ক্লাবগুলি সম্মিলিতভাবে বর্তমানে জিনিয়াস স্পোর্টস মডেলে ফেডারেশনের যে ফি কাঠামো বিবেচিত হয়েছে, সেই একই কাঠামো বজায় রাখবে, যাতে ফেডারেশনের কোনও নিশ্চিত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। একই সঙ্গে ক্লাবগুলি জানিয়েছে, ডেটা, প্রযুক্তি, ইন্টিগ্রিটি সলিউশন, ফ্যান এনগেজমেন্ট প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক পণ্যের ক্ষেত্রে জিনিয়াস স্পোর্টসের দক্ষতাকে সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাচ্ছে তারা। সেই অনুযায়ী, ক্লাবগুলি চিঠিতে প্রস্তাব করেছে, জিনিয়াস স্পোর্টসকে লিগের নির্দিষ্ট ডেটা ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে নিয়োগ করার জন্য।
এইরকম আরও একাধিক প্রস্তাব দিয়ে ইস্টবেঙ্গল বাদে বাকি ক্লাবগুলি একযোগে ফেডারেশনকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করেছে, ২২ মে-র পরিবর্তে অন্য আরেকদিন জিনিয়াস স্পোর্টস, ফেডারেশন এবং ক্লাবগুলির মধ্যে একটি আলোচনার দিন ঠিক করার জন্য।
