কিছুদিন আগে মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে হঠাৎই ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, এই মরশুম শেষ হলে তিনি আর ইস্টবেঙ্গলে কোচিং করবেন না। কোচ অস্কারের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন পড়ে যায় লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে। সামনেই রবিবার গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি ম্যাচ। তার আগে এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পরের মরশুমে থেকে যাওয়ার জন্য অস্কারকে অনুরোধ করা হবে।
ইমামি কর্তারা মনে করছেন, ঠিক ডার্বির আগেই ফুটবলারদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য কোনও একটি অংশ থেকে রটানো হচ্ছে, সামনের মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আর নেই ইমামি। প্রতি মরশুম শেষ হওয়ার মুখেই ঠিক এক আলোচনা শুরু হয়, পরের মরশুমে ইমামি আর নেই। অথচ এই মরশুমে ভালো দল গড়ে চ্যাম্পিয়নশিপের মুখে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে ডার্বির আগে ফের প্রচার শুরু হয়েছে ফুটবলারদের মনোসংযোগ নষ্ট করার জন্য। ডার্বির আগে কোচ-ফুটবলাররা যাতে মানসিকভাবে দারুণ জায়গায় থাকতে পারেন, তার জন্য এদিন অভিনব প্রয়াস নিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তারা।
বৃহস্পতিবার সভাপতি মুরারিলাল লোহিয়া ক্লাবের কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকায় মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ প্রণব দাশগুপ্ত। মিটিং শুরুর আগে মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোসের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নীরবতা পালন করা হয়। তারপর কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত মতো ক্লাবের তরফে প্রেস রিলিজ দিয়ে জানানো হয়, অস্কার ব্রুজো পরের মরশুমে না থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও যেন কোচ তাঁর মন পরিবর্তন করেন। ফের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। পাশাপাশি ইনভেস্টর ইমামি কর্তৃপক্ষকেও ক্লাবের তরফে অনুরোধ করা হচ্ছে, অস্কার ব্রুজোকে পরের মরশুমেও কোচের পদে রেখে দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে কথা বলতে।
উল্লেখ্য, গত বছর মরশুমের মাঝপথে ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নেন অস্কার। তবে গত দেড় বছরে কোনও ট্রফি এনে দিতে পারেননি। এবছরের ৩১ মে ইস্টবেঙ্গলে তাঁর শেষ দিন, এমনটাই ঘোষণা করেছেন স্প্যানিশ কোচ। নাম না করে ক্লাব কর্তাদের তোপ দেগে অস্কার বলেছিলেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কিছু লোক আছে, যারা দলের উন্নতি করতে চায় না।" পালটা দেবব্রত সরকার বলেন, “কোচ পেশাদার। আজ আছে, কাল চলে যাবে। ওর কথায় আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না।" তবে সেই বিতর্ক আপাতত ভুলেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা।
