কর্তাদের কথায় ভরসা রেখে আইএসএল খেলতে এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মরশুমের মাঝপথে আচমকাই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে দল! এহেন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন জামশেদপুর এফসির ফুটবলাররা। টাটা কর্তৃপক্ষের কাছে রীতিমতো হাতজোড় করে তাঁরা অনুরোধ জানিয়েছেন, দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা আরও একবার ভেবে দেখার জন্য। ভাইরাল হয়েছে ফুটবলারদের কাতর আবেদনের ভিডিও। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা কি ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া উচিত ছিল না?
দীর্ঘ টালবাহানা, জটিলতার পর অবশেষে চলতি বছর আইএসএল হবে। গত মরশুম পর্যন্তও আইএসএল খেলা নিয়ে জামশেদপুরের যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি জল্পনা শুরু হয় জামশেদপুরের আইএসএল-ভবিষ্যৎ নিয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইএসএলে অংশগ্রহণের প্রথম কিস্তির টাকা জমা না দেওয়ায় সেই জল্পনা আরও বাড়ে। ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ৫৫ লক্ষ টাকা করে প্রথম কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল ১৪টি ক্লাবের। সেই তালিকায় ছিল জামশেদপুর ও ইন্টার কাশীও। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করা হয়। ইন্টার কাশী টাকা মিটিয়ে দিলেও জামশেদপুর তা করেনি। শেষ পর্যন্ত আইএসএল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিল তারা।
তারপরেই জামশেদপুর এফসির ফুটবলাররা একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ক্লাবের ডিফেন্ডার প্রতীক চৌধুরী বলেন, "গতকাল জানতে পারলাম ক্লাব বন্ধ হয়ে যাবে। ডুরান্ড কাপের পর আর আমরা থাকব না। এই সিদ্ধান্তে আমরা সবাই হতবাক। একইসঙ্গে হতাশ হয়েছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি।" এরপর হাতজোড় করে টাটা গোষ্ঠীর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, "টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির ঐতিহ্য এবং জামশেদপুর এফসির প্ল্যাটফর্ম অসংখ্য তরুণ ফুটবলারের স্বপ্ন। অনুগ্রহ করে এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করুন।"
উল্লেখ্য, টাটা কর্তৃপক্ষ তাদের বোর্ড মিটিংয়ে ঠিক করেন, ইন্ডিয়ান সুপার লিগের জন্য কোনও অর্থ তারা খরচ করা হবে না। কারণ, যে টাকাটা খরচ হচ্ছে, তার কোনও রিটার্নই ভারতীয় ফুটবল থেকে পাচ্ছে না টাটা সংস্থা। বোর্ডে ঠিক হয় আইএসএলের জন্য এই যে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, তার বদলে বছরে চার-পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে জুনিয়র ফুটবলের ডেভলপমেন্ট করা যাবে। তাতে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতে সাহায্য হবে। বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আইএসএল থেকে নাম তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু আইএসএল খেলার স্বপ্ন দেখে যে ফুটবলাররা জামশেদপুরে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ? উত্তর নেই।
